27/08/2017
সাইক্লিং অত্যন্ত এনার্জি এফিশিয়েন্ট মোড অফ ট্রান্সপোর্ট, আমরা সবাই জানি। কিন্তু কতটা এনার্জি এফিশিয়েন্ট?
সত্যটা হচ্ছে সাইক্লিং মানুষ্যের তৈরি সকল ট্রান্সপোর্টেশন মোডের চেয়ে বেশি এফিশিয়েন্ট অ্যান্ড দ্যাট বাই এ লং মার্জিন। কিভাবে এবং কতটা? বুঝিয়ে বলি।
এফিশিয়েন্সি বা কর্মদক্ষতাকে মেকানিকাল আর এনার্জির প্রেক্ষিতে ভাগ করা যেতে পারে।
মেকানিকাল বা যান্ত্রিক কর্মদক্ষতার বাংলা মানে হল আপনি কতটুকু শক্তি খরচ করছেন আর তার রেস্পেক্টে মেশিন আপনাকে কতটুকু আউটপুট দিচ্ছে। সেই হিসেবে সাইকেলের প্যাডেলে আপনি যতটুকু শক্তি দেন তার ৯৯% চাকায় ট্রান্সফার হয় (ফিক্সড গিয়ার, চেইন লুব করা থাকতে হবে।) আর অন্যদিকে গাড়ির গ্যাসোলিন ইঞ্জিনের এফিশিয়েন্সি মাত্র ২০%! বুঝেন তাইলে!!
কনভিন্সিং লাগলো না, রাইট? ভাবছেন গাড়িতো অনেক জোরে চলে ব্লা ব্লা - এই ইনেফিশিয়েন্সি মেনেই নেওয়া যায়। আসেন দেখি এনার্জির রেস্পেক্টে সাইকেল আর গাড়ি কেমন এফিশিয়েন্ট।
আমরা যখন হাটি, ধরেন ঘন্টায় ৫ কিলোমিটার বেগে, আমরা (ধরেন ৭০ কেজিই ওজন আপনার) তখন ৬০ ওয়াট পাওয়ার আউটপুট দেই, এই পাওয়ার দিয়ে ধরেন তিনটা বড় সাইজের রুমে আলো দেয়া যাবে (LED দিয়ে)। এই ৬০ ওয়াটই যদি আপনি একটা বাংলা সাইকেল বা হিরো রেঞ্জার ম্যাক্সে দেন, তাহলে ঘন্টায় ১৫ কিলোর বেশি স্পিডে যাইতে পারবেন। মানে সাইক্লিং হাটার চেয়ে তিনগুনের চেয়েও বেশি এফিশিয়েন্ট।
আসেন ক্যালরির হিসাবে আসি। একজন ৬০-৭০ কেজির সাইক্লিস্ট ঘন্টায় ১৬ কিলোমিটার স্পিডে ১ কিলো সাইকেল চালাইলে প্রায় ১৫ কিলোক্যালরি এনার্জি বার্ন বা কনজিউম করে। একটা সেদ্ধ ডিম খেলে ৮০ কিলোক্যালরি এনার্জি পাওয়া যায়। তারমানে একটা ডিমের এনার্জি দিয়ে আপনি সাইক্লিং করে প্রায় ৫ কিলো (৩ মাইলের মতন) যেতে পারবেন ১৮ মিনিটে। সেইম ডিস্ট্যান্স হেটে যেতে ৩ টা ডিমের এনার্জি লাগবে।
একটা গাড়ি নরমালি ১২.৫ মাইল যায় এক গ্যালন তেলে। এক গ্যালনে ৩১ হাজার কিলোক্যালরি আউটপুট এনার্জি আছে। মানে যেখানে ৩ মাইল যেতে সাইক্লিং করে ১ টা ডিমের এনার্জি লাগে, সেইম দূরত্ব যেতে গাড়ির ৯৩ টা ডিমের এনার্জি লাগে। গাড়ির মাইলেজ বাড়িয়ে ২৫ mpg (মাইল পার গ্যালন) আর গাড়িতে দুইজন বসিয়ে দিলেও পার পারসন ২৩ টা ডিম লাগতেসে। Toyota Prius, যেটা কিনা ৫০ mpg, সেটাতেও গাদাগাদি করে চার জন কে বসান, পার পার্সন ৭ টা ডিম লাগতেসে, কই ১ টা ডিম আর কই ৭! ভাগ্যিস গাড়ি ডিমে চলেনা, চললে আর ডিম খাওয়া লাগতো না। গাড়ি চলে তেলে, নন রিনুয়েবল এনার্জি সোর্স, একদিন শেষ হয়ে যাবে। তখন কি করবেন? এর চেয়ে ভাল সাইকেল চালান, মুরগিদের একটু প্রাইভেসি দিন - ডিম খান।
একটা ছবি অ্যাটাচ করলাম, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রান্সপোর্ট স্টাডিজের প্রফেসর + বন্ধু মানুষ (!!) David Banister এর বানানো সব মোড অফ ট্রান্সপোর্টের এনার্জি এফিশিয়েন্সি নিয়ে কম্পারেটিভ গ্রাফিকাল অ্যানালাইসিস। প্রতি কিলো যেতে কোন বাহন কতটা এনার্জি ইউজ করে তা দেখানো আছে গ্রাফিকটাতে। সাইকেল ০.০৬ মেগা জুল, মানে ৬০ কিলোজুল (~১৫ কিলোক্যালরি) পার কিলো, গাড়ি গড়ে ২.১ মেগা জুল পার পার্সন, মানে সাইক্লিং ৩৫ গুন বেশি এফিশিয়েন্ট (গ্রাফটা দেখেন, বুঝতে পারবেন)!
আর কি বলবো, শুধু বলি সাইকেল চালান, ডিম খান। 😁