26/04/2024
বর্তমানে প্রায়ই বলতে শোনা যায় এমনকি আমিও বলি জীবনে রিয়াল মাদ্রিদের মত কাম ব্যাক করতে হবে। রিয়াল মাদ্রিদের খেলা মানেই নতুন এক কামব্যাকের রেকর্ড। কিন্তু যারা ১৭-এর উচল দেখেছে তারাই জানে সত্যিকারের কাম ব্যাক কি রকম হয় এবং সেই রেকর্ডের উপস্থিত সাক্ষী হওয়াটা ছিলো কতটা আনন্দময়। তখন ক্লাবের খেলা দেখা না হলেও বার্সার খেলা দেখা হতো মোটামুটি। তখন লেগ ১, লেগ ২ বুঝতাম না শুধু জানতাম ২ ম্যাচে যারা বেশি গোল দিবে তারাই পরের রাউন্ডে যাবে। রাউন্ড সিক্সটিনে বার্সা ও পিএসজির খেলা। পিএসজি ক্লাবের সাথে অতটা পরিচিত না থাকলেও এতটুকু জানতাম যে অই টিমে ছিলো ডি মারয়া, কাভানি,মার্কু, রাবিয়োত ও ড্রাক্সলারদের মত বড় বড় তারকা প্লেয়ার। প্রথম লেগে পিএসজির ঘরের মাঠে ডি মারিয়া, কাভানিদের তোপে যথারিতি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলো বার্সা। সেদিন মেসি, নেইমার, সুয়ারেজরা যেন পাত্তাই পায়নি পিএসজির ডিফেন্সের কাছে। গুঞ্জন ছিলো লেগ ২ ই হবে উচলে বার্সার হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচ। প্রথম লেগে ০/৪ গোলে পিছিয়ে থাকা লুইস এনরিকের বার্সা দ্বিতীয় লেগে ক্যাম্প ন্যূ তে খেলতে নামে ৩-১-৪-২ ফরমেশন নিয়ে। এবং আহত বাঘ কতটা ভয়ংকর হয় সেই উদাহরণের শুরুটা করে লুইস সুয়ারেজ। ম্যাচের ৩ মিনিটেই ব্যাবধান কমিয়ে আনেন তিনি। সেই ম্যাচের হাফ টাইম শেষ করে বার্সা ৪-২ এ পিছিয়ে থেকে। যতদূর মনে পরে সেকেন্ড হাফ শুরুর দিকেই মেসি আরেকটি গোল করেন পেনাল্টি থেকে। সেই গোল দিয়েই হয়তো তারা বিশ্বাস করেছিলো এখনো ম্যাচ আমাদের হাতে। বল নিয়ে নিজেরাই চলে যান সেন্টারে। বল সাজিয়ে দিয়ে খেলা শুরুর আহবান জানান পিএসজিকে। তখনো বোঝা যাচ্ছিলো এই ম্যাচ ছিনিয়ে আনার জন্য কতখানি মরিয়া হয়ে ছিলো বার্সা। কিন্তু সেই ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয় কাভানি। কিছুক্ষন পরেই দুর্দান্ত এক গোলে ব্যাবধান বাড়িয়ে দেন তিনি। সেই গোলের পর ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বার্সা ছিলো একেবারেই নীরব, দেখে মনে হয়েছিলো রাউন্ড অফ সিক্সটিন থেকে বাদ পরতে বার্সা প্রস্তুত। লিওনেল মেসিও সেদিন থেমে গেছিলো। তবে আসল কাহিনিটা ঘটে ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে। ফ্রি কিক থেকে নেইমারের অবিশ্বাস্য গোল গোলের ব্যাবধান কমিয়ে আনে। এখনো এক গোল পিছিয়ে থাকা দলটি জেগে উঠে পুনরায়। মূল সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি পায় বার্সা। ক্লান্ত মেসি সেদিন পেনাল্টির দায়িত্ব তুলে দেন নেইমারের হাতে। নেইমারও পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় নিয়ে আসেন দলকে। আর বার্সাও বলে উঠে উই আর হেয়ার টু উইন। পুরো ক্যাম্প ন্যূ সেদিন কেপে উঠেছিলো। এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে নেইমারের এসিস্ট থেকে অসাধারণ গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান রবার্তো। আর ফুটবল বিশ্বও সাক্ষী হয় সত্যিকারের কাম ব্যাকের। ডিম মারিয়ারা সেদিন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। প্রথম লেগে ০-৪ গোলে পিছিয়ে থাকে দ্বিতীয় লেগ শেষ করে ৬-১ গোলের জয়ে। এবং ৬-৫ গোলের ব্যাবধানে বার্সা চলে যায় কোয়াটার ফাইনালে।
আমার দেখা অন ওফ দ্যা বেস্ট ম্যাচ ছিলো অটা। এখনো প্রায়ই হাইলাইটস দেখি সেই ম্যাচের। আর এখনকার বার্সা সেই পিএসজির সাথেই প্রথম লেগে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে ৪ গোল খায়। এই জন্যই বলি মেসি, সুয়ারেজ, নেইমারদের সেই বার্সা উইল নেভার কাম ব্যাক।
২১/৪/২০২৪