03/08/2026
ঘাড়ের ঠিক নিচে একটা উঁচু অংশ হয়েছে? খোঁপা করলে, শাড়ির ব্লাউজ পরলে বা হিজাব পরলে সেটাই আগে চোখে পড়ে?
ঘাড়ের ওপর এই কুঁজ এর মত উঁচু হয়ে থাকাকেই বলে "নেক হাম্প"।
নেক হাম্প মানেই সেখানে শুধু চর্বি জমেছে, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। সবচেয়ে বেশি যে কারণটা দেখা যায়, সেটা হলো বছরের পর বছর খারাপ পোশচার। সারাদিন মাথা নিচু করে মোবাইল দেখা, ল্যাপটপে কাজ করা, ঝুঁকে বসে থাকা- এসব করতে করতে মাথা ধীরে ধীরে সামনে চলে আসে এবং ঘাড়ের স্পাইন অস্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। মাথাকে টেনে ধরে রাখার জন্য ঘাড় ও পিঠের সংযোগস্থলের মাংশপেশি ও টিস্যুকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চাপ সহ্য করতে হয়। এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে শরীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অংশের চারপাশে লিগামেন্ট ও টিস্যু পুরু করে ফেলে, যা বাইরে থেকে দেখতে ঢিবির মতো লাগে।
তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ওই জায়গায় সত্যিই অতিরিক্ত চর্বি জমে, বিশেষ করে শরীরে ফ্যাট বেশি থাকলে। আবার খুব কম সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার বা কুশিং সিনড্রোমের মতো হরমোনজনিত সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। তাই সবার নেক হাম্পের কারণ এক হবে, এমনটা ধরে নিলে ভুল হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সমাধান কী?
দেখেন ইউটিউব ঘেঁটে আপনি অনেক ভিডিও পাবেন নেক হাম্প নিয়ে, সেগুলো সব যে বেকার তাও নয়। কিন্তু আপনার নেক হাম্প এর কারন যদি হয় আপনার বদঅভ্যাস তবে এইসব ভিডিওর এক্সারসাইজ করে তেমন উপকার হবে না। এক্সারসাইজও করতে হবে, আবার নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বসার ভঙ্গি, দাঁড়ানোর ভঙ্গি, মোবাইলে মাথা ঢুকিয়ে রাখার অভ্যাস ঠিক করতে হবে।
আর যদি অতিরিক্ত চর্বির কারণে হয়ে থাকে, তাহলে শুধু ঘাড়ের এক্সারসাইজ করে লাভ নেই। শরীরের নির্দিষ্ট একটা জায়গার চর্বি আলাদা করে কমানো যায় না। এ নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে, আর ফলাফল বারবার একই এসেছে। তাই ডায়েট, স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এবং শরীরের মোট ফ্যাট কমানোর দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।
আপনার কি এই সমস্যা ছিল বা আছে? সমাধানের জন্য আপনি কি কি করেছেন বা করছেন?