31/07/2026
আরব আমিরাতের মানুষ মনে করে ‘সৌদি আরব তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘা/তকা করেছে।’ এমন মনে করার অনেকগুলো কারণ আছে—সংক্ষেপে কয়েকটি বলছি; প্রথমত তেলের সাম্রাজ্য, দ্বিতীয়ত আফ্রিকায় আধিপত্য, ইসলামি নেতা হতে চাওয়া, ডলারের রাজনীতি ভাঙতে চাওয়া এবং দ্রুত বড় লোক হতে বাধা পাওয়া।
এই কারণগুলো প্রকট হয়েছে ইরানের সঙ্গে ঝামেলা বাধার পর। দেখেন, ইরানে হা/মলা চালানোর আগে আমেরিকা কিন্তু সৌদি-আমিরাতের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছিল। ওরা সায় দিয়েছে বলেই এমন সাহস আমেরিকা করেছে। কিন্তু সৌদি তখন এমন এক ভাব করেছিল যে তারা কিচ্ছু বোঝে না।
যাইহোক, ওই কাহিনী আগের পোস্টে লিখেছি। চাইলে পড়ে আসতে পারেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, তাড়াহুড়ো করে সৌদি কেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট করতে গেল? এর পেছনে আছে ‘প্র/তারণা আর বিশ্বাসঘা/তকতা’। সৌদি জাস্ট আইওয়াশ করতে চাইছে। নিরাপত্তার ‘ন’ও থাকবে না। মানুষ মা/রার বৈধতা বলতে পারেন। আমি ভুলও হতে পারি।
কিন্তু একটা ধারণা তো করাই যায়—হঠাৎ করে সৌদি কেন সমুদ্র বাচাতে জোট গড়ল? ওই জোটে কিন্তু বাংলাদেশও আছে। কথা হচ্ছে, এই জোটের কাজ কি?
এরা মূলত বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা দেবে। কাদের থেকে? ইয়েমেন তথা হু/থিদের থেকে।
মজার একটা বিষয় দেখেন, ওই জোটে কিন্তু আমিরাত কিংবা ওমান নাই। কেন নাই—বুঝতে পারছেন? ওই যে বললাম ‘আমার খাবার আগে চাই’ টাইপের অবস্থা। ইরান যখন উপসাগরের সব দেশগুলোকে তামাতামা করছিল তখন সৌদি আম্রিকার নিরাপত্তা ছাতায় চেপে তেল ছাড়ছিল বাজারে। সেই তেল সরাসরি যাচ্ছিল ইউরোপে।
রুটটা খেয়াল করেন, সৌদি তাদের তেল পাইপলাইনে করে পশ্চিম সীমান্তে আনত। সেখান থেকে লোহিত সাগর হয়ে সোজা সুয়েজ ক্যানেল হয়ে ইউরোপ। পথে কোনো বাধা নাই। হরমুজ প্রণালিও নেই। দেদারসে তেল বাজারে ছাড়া হচ্ছিল। ইউরোপে তাই কোনো ঘাটতি নাই। কিন্তু এশিয়ায় আছে। কেন আছে? কারণ তাদের পথে হরমুজ প্রণালি পড়ে। এই পথ আবার ইরানের নিয়ন্ত্রণে। আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে, আমিরাত-কুয়েত-কাতার সবাই এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কারণ তাদের সমুদ্রে পৌঁছানোর আর কোনো পথ নেই।
সৌদি এখানে একটা দারুণ প্রস্তাব দিয়েছিল—‘তোমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে আসো, আমরা বাজারে ছাড়ছি।’ কিন্তু এই কাজ করতে হলে পুরো সৌদি ঘুরতে হবে, অনেক খরচ। নিরাপত্তাও বড় ইস্যু। ঠিক এই সময়ে ওপেক ছাড়ে আমিরাত। কারণ তারা সৌদির একপেশে তেল বিক্রি মানতে পারছিল না। ইরানে রাগের বশে তাই হা/মলাও করে আমিরাত। জবাবটাও ভালো মতো পায়।
কিন্তু কথা হচ্ছে, সব যদি সৌদির পক্ষে থাকে তবে তারা কেন তাড়াহুড়ো করে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট করতে যাচ্ছে? এর একমাত্র কারণ হতে পারে নিজের পেটে লা/থি আসার ভয়। হু/থিরা খুব কৌশলী, হরমুজের মতো তারাও বাব এল মান্দেব প্রণালির দখল নিয়ে রেখেছে। এখন এমন হইছে যে সুযেজ ক্যানেলও কার্যত বন্ধ। গত ২৪ ঘণ্টায় এই পথে মোটে ২৫টা জাহাজ গেছে। তারমাঝে পণ্যবাহী ছিল মোটে ১৭টি। আর এই সময়ে হরমুজ ছাড়তে পেরেছে মোটে দুটি জাহাজ।
হু/থিদের ওপর হামলা হওয়ার পর তারা প্র/তিশোধ হিসেবে এ কাজটি করেছে। সৌদি বড্ড ভয় পাচ্ছে—যদি এই পথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে তবে যু/দ্ধ বড় আকার ধারণ করতে পারে অথবা পরাজয় মেনে আমেরিকা ইরানের ফেবারে চুক্তি করতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের সামনে পরাজয় মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’ আর সেই পথটা খুলে দিয়েছে সৌদি। এবার সেই পথ বন্ধ করতেই তোড়জোড়।
বিশ্বের এতগুলো দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হা/মলা করার সাহস হয়ত করবে না হু/থিরা। করলে মাস্ট বিশ্বযু/দ্ধ।
Disclaimer: This post is for educational and informational purposes only. It is based on publicly available facts and is not intended to promote hatred, violence, or discrimination against any individual, group, religion, or nation. Thank you.
#সৌদিআরব