19/11/2024
আমাদের ৩ ছাত্রনেতা প্রথম আলোর ইনভাইট পেয়েও যায় নাই, আপনারা জানেন।
এরপর তারা পুলিশ আর জনপ্রশাসনেও একটা বড় চেঞ্জ আনার চেষ্টা করেন। এবং এই করতে গিয়েই, তারা এখন বড় ধরণের বিপদের মুখোমুখি হয়ে গেছে।
এবং খুব সম্ভবত এই বিপ্লব আর বিদ্রোহের বড় ধরণের মূল্য আসিফ, নাহিদ আর মাহফুজকে দিতে হচ্ছে।
শুরুটা হয়েছিলো মাহফুজকে প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে।
মাহফুজের ক্ষমতা কমানোটা ছিলো এই খেলার প্রথম ধাপ। ডক্টর ইউনূসের উপর ছাত্রদের প্রভাব কমাইয়া ফেলা হয়।
ফলাফল?
এতোদিন রিসেট বাটনের কথা বলা ডক্টর ইউনূস গতকাল কথা শুরু করেছেন ৭১ এর কথা বলে।
আহতরা চিকিৎসা পায় নাই। পুরো মিডিয়া দোষ দিলো উপদেষ্টাদের। ছাত্রনেতাদের।
অথচ স্বাস্থ্য, আর জনপ্রশাসনের সচিব কোন দলের জানেন? একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলের, সকাল বিকাল যারা নির্বাচন চায়।
এই দলটাই একদিকে মিডিয়ার সামনে এসে আহতদের চিকিৎসা চাইতেছে। অন্যদিকে দলের সচিব দিয়ে চিকিৎসা আটকাইয়া রাখসে। যাতে এই সরকার ফেইল করে।
মাহফুজের পর এবার টার্গেট করা হয়েছে আসিফ মাহমুদকে।
সেই আসিফ মাহমুদ, যিনি ৫ আগস্টে হাসিনা পালানোর পরেও আমাদের মাঠে থাকতে বলেছিলেন।
আসিফ মাহমুদ প্রশাসনে ভারতীয় লবির বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এক্টিভ হতে থাকেন গত সপ্তাহ থেকে। বিশেষ করে পুলিশ আর জনপ্রশাসনকে তিনি ভারতের দালাল কর্মকর্তাদের হাত থেকে সরিয়ে বাংলাদেশপন্থীদের হাতে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
এবং এখানেও ঐ বিশেষ রাজনৈতিক দল এসে বাগড়া দিতে শুরু করে। এবং শেষমেষ আসিফ মাহমুদের নামে ডক্টর ইউনূসের কাছে অভিযোগ করা হয় যে আসিফ মাহমুদ নাকি প্রশাসনে দুর্নীতি করার চেষ্টা করতেছে।
পুরো খেলাটাই খেলা হচ্ছে দিল্লীর প্রেসক্রিপশনে। দিল্লী থেকে প্রেসক্রিপশন আসছে। সেই প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করতেছে দেশের বড় একটা রাজনৈতিক দল। সমস্যা হলো, অন্য দলগুলোও এর বিরুদ্ধে কিছু বলছে না।
অথচ আমাদের ভাইয়েরা, যারা হাসিনার কোটি টাকার প্রস্তাব পায়ে ঠেলে মৃত্যু বুকে নিয়ে ইনকিলাবের পতাকা আঁকড়ে ধরেছিলো, তাদের উপর এখন দুর্নীতির মতো নোংরা অপবাদ দিতেও ওরা ভাবতেছে না।
কেন?
আগেই বলেছিলাম, হাসিনা আর ফেরত আসবে না। তবে নতুন কাউকে হাসিনা বানানো হবে। এতে কি শুধু ভারতের লাভ?
না। চিন্তা করে দেখেন, যাকে হাসিনা বানানো হবে, লাভটা তারও। আরামসে দেশের মানুষের উপর জুলুম করতে পারবে ১০-১৫ বছর। আর কাউকে হাসিনা বানাতে গেলে কী দরকার?
হাসিনার প্রশাসনের ফুল সেট আপ দরকার। যেই সেট আপ নেক্সট সরকারকেও হাসিনা হতে হেল্প করবে।
এই সেট আপটাই আসিফরা ভাঙতে গেছিলেন।
এবং সেটারই মূল্য তারা চোকাতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশে বিপ্লবীদের পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি। এইজন্য বাংলাদেশে কোন বিপ্লব ই আসলে সফল হয়নি।
এবারের বিপ্লবেও খুব সম্ভবত ফাঁসির দড়ি এগিয়ে আসছে বিপ্লবীদের দিকে।
এক দল তো চেয়েও দড়ি পড়াতে পারেনি, এখন আরেকদল সেই দড়ি এগিয়ে নিয়ে আসছে।
তবে এইবার যদি এই বিপ্লবীদের আমরা বাঁচাতে না পারি, আর কোনদিন কোন ছেলে বা মেয়ে এই দেশে আর কোন বিপ্লব করবে না।
এবারের বিপ্লবে আমাদের স্লোগান ছিলো, দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা। দালালি না রাজপথ? রাজপথ,রাজপথ। আপোস না সংগ্রাম? সংগ্রাম, সংগ্রাম।
আমাদের তিন ভাই এই রাস্তার স্লোগানটাই সরকারেও টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। প্রশাসন আর পুলিশ প্রশ্নেও তারা আমাদের দিল্লি না ঢাকার প্রশ্নে ঢাকাকেই বেছে নিয়েছিলো।
বাট তারা অবাক হয়ে দেখছে, বাংলাদেশের মানুষ যেমন সবাই ঢাকার পক্ষে ছিলো, প্রশাসনে অমন না। একটা রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের পুলিশ রিফর্মেশন আটকে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকাকে কাছে টানতে গিয়ে এই তিনজন আপাতত সবকিছু হারিয়ে বসে আছেন। মিডিয়া নাই, প্রথম আলো বা স্টার ওদের পক্ষে নাই,,রাজনৈতিক দল পক্ষে নাই।
অথচ ওদের প্রেসক্রিপশন মানলে সব পক্ষে থাকতো।
জনগণের পক্ষে থাকতে গিয়ে উনারা আপাতত সবকিছু হারিয়ে বসে আছেন। এখনও আমার আপনার হয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন দিল্লীর আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।
এই লড়াই এ যদি আসিফ নাহিদ আর মাহফুজ হেরে যান, ঢাকা হেরে যাবে, বাংলাদেশ হেরে যাবে, ইনকিলাব হেরে যাবে।
মৃত্যুর ভয় আমরা করি না। আমাদের ২০০০ ভাই তো চলেই গেছে, আমরাও ঐ পথে যাইতে আগেও প্রস্তুত ছিলাম, এখনও প্রস্তুত আছি।
তবুও যেই স্বপ্ন নিয়ে আমার ভাইয়েরা জীবন দিলো, পঙ্গু হলো, অন্ধ হলো, সেই স্বপ্নকে আমরা মরে যেতে দিবো না। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও, আমরা মরে গিয়ে হলেও এই স্বপ্নকে আমরা বাঁচাবো।
কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের কথাতে আসিফ নাহিদ বা মাহফুজকে সরিয়ে ফেলার কোন ধরণের প্রশাসনিক ক্যু যদি আজকে হয়, আমরাও আমাদের ভাইদের হয়ে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত আছি।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
-সাদিকুর রহমান খান