27/08/2026
ফুটবল মাগুরা জেলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। এই জেলার রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, মাগুরার ফুটবলের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। যেখানে মাঠ জুড়ে ফুটবলারদের মুখর থাকার কথা, সেখানে এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে।
প্রতিভার অভাব নেই, অভাব শুধু সুযোগের:
সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৪ জেলাকে পেছনে ফেলে মাগুরা জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, মাগুরার মাটিতে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ক্ষুদে চ্যাম্পিয়নদের জমকালো সংবর্ধনা দিয়েই যেন জেলা ক্রীড়া সংস্থা তাদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলেছে। সংবর্ধনা ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, কিন্তু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয় না। এই উদীয়মান ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিভা বিকাশের জন্য কোনো দৃশ্যমান বা টেকসই পরিকল্পনা এখনো চোখে পড়ছে না।
আশেপাশের জেলাগুলোর তুলনায় মাগুরার স্থবিরতা:
আমাদের প্রতিবেশী ও দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর দিকে তাকালে ফুটবল নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ
সাতক্ষীরা ডি সি কাপ
পাবনা ডি সি কাপ
মেহেরপুর ডি সি কাপ
শৈলকূপা উপজেলা গোল্ডকাপ
এই টুর্নামেন্টগুলো নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে নতুন নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে। পক্ষান্তরে, মাগুরায় আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্ট বা গোল্ড কাপের আয়োজন নেই। ফলে নতুন খেলোয়াড় তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, বর্তমান খেলোয়াড়রাও ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের দাবি ও সুপারিশমালা:
মাগুরার ফুটবলের সুদিন ফিরিয়ে আনতে জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ক্রীড়া সংগঠক এবং জেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন:
১. জেলা প্রশাসক (DC) গোল্ড কাপ চালু: ঝিনাইদহ বা সাতক্ষীরার মতো মাগুরায়ও প্রতি বছর নিয়মিত জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে।
২. দীর্ঘমেয়াদী ফুটবল একাডেমি ও ক্যাম্প: অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়ন দলসহ জেলার সেরা প্রতিভাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক কোচিং ক্যাম্প এবং ফুটবল একাডেমি গড়ে তুলতে হবে।
৩. উপজেলা পর্যায়ের টুর্নামেন্ট: ফুটবলকে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত আন্তঃস্কুল ও আন্তঃইউনিয়ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন।
৪. ক্লাব ফুটবল পুনরুজ্