26/04/2026
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবলের অমর কিংবদন্তি। ২০২৬ সালে তার বয়স ৪১, আর এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। রোনালদো নিজেই বলেছেন, ২০২৬ হবে আমার শেষ বিশ্বকাপ। এই মুহূর্তে আল নাসরের হয়ে তিনি এখনো দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, গোল করে যাচ্ছেন এবং ১০০০ ক্যারিয়ার গোলের খুব কাছে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু বড় প্রশ্নটা হলো পর্তুগালের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে রোনালদোকে প্রতি ম্যাচে শুরু থেকে খেলানো উচিত, নাকি সুপার সাব হিসেবে রেখে তার শক্তি সঠিক সময়ে ব্যবহার করা ভালো?
রোনালদোর অভিজ্ঞতা, মেন্টালিটি এবং বক্সের ভিতরে ফিনিশিং ক্ষমতা এখনো অতুলনীয়। তিনি পর্তুগালের ক্যাপ্টেন, সর্বকালের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা এবং টিমের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে এবং সতীর্থদের জন্য স্পেস তৈরি করে। অনেকে মনে করেন, তার শেষ বিশ্বকাপে তাকে শুরু থেকে না খেলালে তার লিগ্যাসির সাথে অবিচার করা হবে। শুরু থেকে খেললে তার অভিজ্ঞতা এবং ক্লাস মোমেন্টে গোল করার ক্ষমতা টিমকে অনেক এগিয়ে নিতে পারে।
অন্যদিকে, বাস্তবতা ভিন্ন। ৪১ বছর বয়সে পুরো ৯০ মিনিট হাই ইনটেনসিটিতে খেলা শরীরের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আল নাসরের কোচ জর্জ জেসুস প্রায়ই ৭০-৮৩ মিনিটের মধ্যে তাকে সাবস্টিটিউট করে দেন, এমনকি ভালো পারফরম্যান্সের পরেও। সম্প্রতি এক ম্যাচে দুই গোল করার পরেও ৮৩ মিনিটে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে ফিটনেস রক্ষার জন্য। কোচ বলেছেন, ইনজুরি থেকে ফিরে আসা রোনালদোর ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করা জরুরি বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে।
বিশ্বকাপে সুপার সাব হিসেবে রাখলে রোনালদো ফ্রেশ লেগ নিয়ে শেষ ২০-৩০ মিনিটে নামতে পারবেন। তখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, স্পেস বেশি থাকে আর রোনালদো ঠিক সেই মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। পর্তুগালের ইয়ং ও এনার্জেটিক ফরোয়ার্ডরা (গনসালো রামোস, জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লেও) শুরুতে প্রেসিং ও লিঙ্ক-আপ করবে, আর রোনালদো পরে এসে ক্লাস গোল করবে। এতে তার ইনজুরির ঝুঁকি কমবে এবং বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার ইমপ্যাক্ট সবচেয়ে বেশি হবে।
আপনি কোনটা বলেন। রোনালদোকে সবসময় শুরু থেকে খেলানো উচিত, নাকি স্মার্ট রোটেশন করে সুপার সাব বানানো ভালো?