31/08/2026
২০১৫/১৬ বিপিএলে নিজের অভিষেক আসরে ১২ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে, টুর্নামেন্টের ২য় সর্বাধিক উইকেটের মালিক বনে গেলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের আবু হায়দার রনি নামে একটা ছেলে।
তখনকার জাতীয় দল ও বিদেশি নামি-দামি বোলারদের ভিড়ে রনি নামটা আলাদা করে কৌতুহল সৃষ্টি করলো সবার মনে।
বামহাতি মোস্তাফিজ তখনও পরিচিতি পাননি, কিন্তু রনি স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন। জাতীয় দল থেকে কয়েক মাস পরেই ডাক এলো। তবে সেখানে টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে আহামরি কিছু করতে পারলেন না।
🔷 ২ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রায় ২৯ গড়ে ৩ উইকেট নেওয়া অবশ্য বলে আরেকটু সুযোগ ডিজার্ভ করতেন। যা-ই হোক, বাংলাদেশে তো একজন ক্রিকেটারকে বাছাই করা হয় এক ফরম্যাটে খারাপ করা মানে, সে পুরোটাই খারাপ হিসেবে।
রনি লম্বা ব্রেক নিলেন। ব্যাটিংটা আগের চেয়ে উন্নতি করলেন, বোলিংয়ে ইন সুয়িং দারুণ ভাবে রপ্ত করলেন। নতুন বলে আরো বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন। এরপর নিজের পিক টাইমও দেখালেন।
🔷 ২০২৪ বিপিএলে ১০ ম্যাচে ১৭ উইকেট তেমনই সাক্ষী দেয়, ততদিনে অবশ্য বাংলাদেশের পেস বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে। তাই এমন পার্ফম্যান্স মুখ্য ছিল না।
কিন্তু ঘরোয়া লিগের রনিকে আরেকটু দেখি:-
➡️ ওই বছর, মানে ২০২৩/২৪ ডিপিএলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে মাত্র ১৯ গড় এবং ৪.৯১ ইকোনোমি রেটে ৩১ উইকেট নিয়ে রনি হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা বোলার।
➡️ অবাক করার বিষয়, ওই সিজনে ব্যাট হাতেও পাক্কা আড়াইশো (২৫০) রান করেছেন তিনি, ১২০ এর উপরে স্ট্রাইক রেট এবং ৩১.২৫ গড়ে।
➡️ ওই সিজনে এনসিএলে ৪ ম্যাচে রনির ঝুলিতে ১৪ উইকেট। গড় ২৪.৫৭, ব্যাট হাতে ৪ ম্যাচে করেছেন ১৪৩ রান।
➡️ ২০২৩ এনসিএলে ৫ ম্যাচে ১৮ উইকেট, ব্যাট হাতে ৫ ম্যাচে প্রায় ৩২ গড়ে ১৯০ রান।
🔷 ২০২৪ NCL-T20 উদ্বোধনী আসরে ১০ ম্যাচে মাত্র ৬ ইকোনমি রেট ও ১৬.৩০ গড়ে রনির শিকার হলেন ১৩ ব্যাটার।
➡️ ব্যাট হাতে ৯ ইনিংসে ১৬৪ স্ট্রাইক রেটে করলেন ১২৩ রান। মন্দ বলার উপায় আছে??
এই প্যাঁচাল গুলো কেন পাড়লাম জানেন? জাস্ট এটা বুঝানোর জন্য রনি আজ থেকে ২/৩ বছর আগে ঘরোয়াতে নিয়মিত পার্ফমার ছিলেন, যার সুবাদে এ' দল, এইচপি এবং এশিয়ান গেমসে খেলতেন। সেখানেও খুব একটা মন্দ করেননি। অলরাউন্ডার হিসেবে শেষ দিকের এমন পার্ফম্যান্স অবশ্য বলে দেয় তিনি জাতীয় দলের একটা কল ডিজার্ভ করতেন।
রনির মতো ক্রিকেটার এখনও এ'টিম, এইচপি টিমে দেখলে বিরক্ত লাগে। কারন জানেন কেন? কারন মানুষটা যখন পিক টাইমে ছিলেন তখনই তাঁকে জাতীয় দলে বিবেচনা করলেন না, এখন করবেন? সম্ভাবনা একদিনে তৈরি হয়না, সম্ভাবনা তৈরি হয় অনেক উন্নতির পর। বাট রনির সম্ভাবনা ওই এ'টিম, এইচপিতেই নির্বাচকরা সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাইতো বলা হয়, এই দেশে ৩০ এর পর কাউকে আর জাতীয় দলে বিবেচনা করা হয় না।
অতঃপর রনির মতো সম্ভাবনা হারিয়ে যায়, নাহয় সীমাবদ্ধ থাকে।
©