29/05/2026
সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিংয়ের যুগে অভিষেক হলে মুশফিকের ওয়ানডে ক্যারিয়ার হয়তো শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ত। আজকের দিনের মতো ফেসবুক-ইউটিউবের দাপট তখন থাকলে তিনি এতদূর আসতেই পারতেন না।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। ২০১১ তে চার নম্বরে নামতেন সাকিব (যার ব্যাটিং গড় ছিল ৩৪), আর ছয়ে নামতেন মাহমুদউল্লাহ (ব্যাটিং গড় ২৯)—তাদের ঠিক মাঝখানে, অর্থাৎ পাঁচ নম্বরে টানা প্রায় ৮০টি ওয়ানডে ইনিংস খেলার পরও একজনের ব্যাটিং গড় মাত্র ২৩! এই পারফরম্যান্স কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অনেকে হয়তো "সেই আমলের ক্রিকেট" এমন একটা টার্মের দোহাই দিয়ে বলবেন, তখন ২৩ গড়ই অনেক ছিল। কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলে এই যুক্তি একদমই টিকবে না। মুশফিক মূলত ২০০৬ সালের পর থেকে নিয়মিত ওয়ানডে খেলা শুরু করেন। আর ততোদিনে বাংলাদেশ দল কিন্তু বেশ গোছানো ও আধুনিক ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছে। দলে তখন শাহরিয়ার নাফিস, তামিম ইকবাল, সাকিব বা মাহমুদউল্লাহর মতো পারফর্মাররা থিতু হয়ে গেছেন। এমনকি ওই সময়ে যার ব্যাটিং নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হতো, সেই রকিবুল হাসানের পরিসংখ্যানও মুশফিকের চেয়ে ভালো ছিল।
কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ২০১১ বিশ্বকাপের পরপরই বিসিবি মুশফিকের হাতে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব তুলে দেয়। অধিনায়ক হওয়ার পরও ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাঁর ব্যাট হাসেনি, কেবল দুটো এশিয়া কাপ ছাড়া বাকি সময় পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই সাদামাটা। তবে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে যেন নতুন মুশফিকের জন্ম হয়। সব সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেন এবং সেখান থেকেই মূলত তাঁর ক্যারিয়ারের আসল মোড়টা ঘোরে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের আগে দল থেকে বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে দুইটা ভালো ইনিংস খেলে সেই যাত্রায় রক্ষা পান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরে তো এক প্রকার বাধ্য হয়েই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।