10/07/2026
ঊনবিংশ শতাব্দীর দিকে হাঙ্গেরি ফুটবল টিম ছিল অপ্রতিরোধ্য। সেই সময় হাঙ্গেরি ফুটবল টিম কে গোল্ডেন জেনারেল বলা যায়।ফেরেঙ্ক পুসকাস, স্যান্ডর কোকসিস, নান্দর হিদেকুতি এবং বোজসিকদের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে গড়া এই দলটি ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত টানা ৩১টি ম্যাচে অপরাজিত ছিল। ইউরোপে স্পেন , জার্মান, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মোতন ফুটবল পরাশক্তি ছিল।সে হাঙ্গেরি এখন আর বিশ্বকাপ খুজে পাওয়া দুষ্কর।পুরো ফুটবল বিশ্বকে যারা শাসন করত তার ১৯৮৬ সালের পর আর কোন বিশ্বকাপ qualify করতে পারে নি।
হাঙ্গেরি ফুটবল ইতিহাস উত্থান পতন সম্পর্কে জানাবো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোচ গুস্তভ সেবেস-এর অধীনে হাঙ্গেরি ফুটবল দলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। এই দলটিকে ফুটবল ইতিহাসে "গোল্ডেন টিম"বা "মাইটি ম্যাগিয়ার্স" বলা হয়। ফেরেঙ্ক পুসকাস, স্যান্ডর কোকসিস, নান্দর হিদেকুতি এবং জোসেফ বোজসিকদের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে গড়া এই দলটি ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত টানা ৩১টি ম্যাচে অপরাজিত ছিল।
১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি ছিল শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। গ্রুপ পর্বে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ এবং পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ গোলে উড়িয়ে দেয়। কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে যথাক্রমে ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা।
ফাইনাল ট্র্যাজেডি: ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সেই পশ্চিম জার্মানি, যাদের তারা গ্রুপ পর্বে ৮-৩ গোলে হারিয়েছিল। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে হাঙ্গেরি ২-০ গোলে এগিয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে পশ্চিম জার্মানি ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয়। ফুটবলের ইতিহাসে এই ম্যাচটি 'মিরাকল অব বার্ন' নামে পরিচিত। এটিই ছিল চার বছরের মধ্যে হাঙ্গেরির প্রথম পরাজয়, যা তাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।
পতনের সূচনা:
১৯৫৬ সালের হাঙ্গেরিয়ান বিপ্লব ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে হাঙ্গেরির জনগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় হাঙ্গেরির শীর্ষ ক্লাব 'হনভেদ' দেশের বাইরে একটি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল। দেশের পরিস্থিতি দেখে দলের প্রধান তারকা ফেরেঙ্ক পুসকাস, স্যান্ডর কোকসিস এবং জোল্টান চিবর আর দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তারা স্পেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং স্প্যানিশ ক্লাবে যোগ দেন (পুসকাস যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে)।
তারকাদের বিদায়: এক নিমেষেই বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এর ফলে হাঙ্গেরিয়ান ফুটবলের সোনালী অধ্যায়ের আকস্মিক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘটে।
এই পরবর্তী কারণে হাঙ্গেরি কে আর তেমন ধারাবাহিক খুঁজে পাওয়া যায় না।