17/09/2026
মৃত্যুর ঠিক আগে সে একবার চোখ মেলে তাকিয়েছিল। মাত্র দুই সেকেন্ড।
হয়তো কাউকে খুঁজছিল।
হয়তো তার চোখ দুটো নীরবে বলছিল, আমাকে বাঁচাও।
হয়তো সে ভাবছিল, কেউ একজন এগিয়ে আসবে। কারো বিবেক জেগে উঠবে। কেউ বলবে, থামো... এ তো মানুষ।
কিন্তু কেউ থামেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ফয়সালকে চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একবার ভাবুন তো...
একজন মানুষকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার শরীরের ওপর ইট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। চারপাশে মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছে। কেউ চুল টানছে, কেউ ঘুষি মারছে। শরীরটা নিস্তেজ হয়ে আসছে, তবুও হাত থামছে না।
তার অপরাধ কী ছিল?
চুরির সন্দেহ।
শুধু সন্দেহ।
কোনো আদালত ছিল না। কোনো বিচার ছিল না। কোনো প্রমাণের অপেক্ষা ছিল না। একটা অভিযোগই যথেষ্ট হয়ে গেল একজন মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য।
সে সত্যিই চোর হলেও তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। আর যদি সে নির্দোষ হয়ে থাকে, তাহলে একটি ভুল সন্দেহের মূল্য দিতে হলো তার পুরো জীবন দিয়ে।
একটা কথা মনে রাখি...
অপরাধের বিচার করার জন্য আইন আছে। আদালত আছে। রাষ্ট্রের ব্যবস্থা আছে।
আমরা কেউ বিচারক নই।
আমরা কেউ জল্লাদও নই।
রাগের কয়েক মিনিট কখনো কখনো একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে যায়।
যে হাতটা এক মুহূর্তের রাগে উঠেছিল, সেই হাতের আঘাতেই হয়তো কোনো মায়ের সন্তান আর ঘরে ফিরবে না। কোনো স্ত্রী অপেক্ষা করেও স্বামীকে পাবে না। কোনো সন্তান বাবার মুখ আর দেখবে না।
তাই কাউকে মারার আগে একবার তার চোখের দিকে তাকান।
ভাবুন, এই মানুষটারও ঘরে ফেরার কথা ছিল।
তারও একজন মা অপেক্ষা করছিল।
তারও আপনজন ছিল।
তারও কিছু স্বপ্ন ছিল।
ফয়সাল আর নেই।
কিন্তু মৃত্যুর আগে তার সেই দুই সেকেন্ডের তাকানোটা যেন আমাদের বিবেকের দিকে তাকিয়ে থাকে।
পরেরবার কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ শুনে হাত তোলার আগে যদি সেই চোখ দুটো মনে পড়ে যায়, আর হাতটা থেমে যায়...
তাহলেই হয়তো একজন মানুষ বেঁচে যাবে।
মনে রাখবেন—
অভিযোগের বিচার হতে পারে।
কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কারো নেই।
-মাওলানা জুবায়ের হোসেন রহমতপুরী