25/06/2026
ডি বক্সের বাহির থেকে বুলেটের গোলার মতো গোল করতেন। মিডফিল্ডার হয়ে ড্রিবলিং করতেন উইংগারদের মতোন। স্কিলফুল মিডফিল্ডার এবং মিডের ক্রিয়েটিভিটি করা বাদেও ছিলেন সমসময়ের অন্যতম সেরা ফ্রি কিক টেকার।
যুব পর্যায়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন টটেনহামে। তবে বাবা হ্যারি রেডকন্যাপ বোর্নমাউথের কোচ থাকায় টটেনহামের অফারকে প্রত্যাখান করে প্রোফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু করেন বোর্নমাউথের হয়ে।জন্মটা হয়েছিল ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারে।
,,,,
কেনি ডালগ্লিসের লিভারপুল ম্যানেজার হিসেবে প্রথম ধাপের শেষ সাইনিং ছিলেন জেমি রেডকন্যাপ।১৯৯১ সালে মাত্র ১৭ বয়সি একজন তরুন খেলোয়াড়কে তখন ইংল্যান্ডের রেকর্ড পরিমান দাম দিয়ে দলে ভিড়িয়ে সমালোচনার মুখোমুখিও হয়েছিলেন কেনি ডালগ্লিস। এরপর হঠাৎ করেই ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে লিভারপুলের ম্যানেজার পদ থেকে পদত্যাগ করেন কিং কেনি।
রেডন্যাপ ডালগ্লিসের সাইনিং হলেও অভিষেক হয় ইউরোপীয়ান কাপে লিভারপুলের আরেকজন কিংবদন্তী মিডফিল্ডার গ্রায়েম সৌনেসের হাতে। লিভারপুলের সর্বকনিষ্ট খেলোয়ার হিসাবে।
ডালগ্লিসের পদত্যাগের পর গ্রায়েম সৌনেসকে একটা বড় ট্রানজিশনাল অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।সৌনেস দলকে অনেকটা ডেলে সাজান। নতুনভাবে তৈরি করা সৌনেসের দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন রেডন্যাপ।কিন্তু রেডন্যাপ শুরুতে সৌনেসের ট্রাকটিক্সে নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেন নি। যার কারনে তার প্রথম আড়াই বছরের বেশির ভাগ সময় কেটেছে রিজার্ভ খেলোয়াড় হিসাবে।
,,,
রেডন্যাপ তার লিভারপুলের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ভালো সময় কাটে জেরার্ড হোলিয়ারের অধিনে।
১৯৯৮/৯৯ সিজনে রেডন্যাপ লিভারপুলের সেরা খেলোয়াড় হন। মিডফিল্ডার হয়ে করেছিলেন ১০ গোল সেই সাথে দলের সর্বচ্চো চান্স ক্রিয়েটরও হন তিনি। সিজন শেষে জন বার্নস, ম্যাকম্যানম্যান এবং পল ইনসের বিদায়ের পর রেডন্যাপকে ভাইস কাপ্তান করা হয় এবং পরের সিজনেই লিভারপুলের আর্মব্যান্ডের দায়িত্ব পান রেডন্যাপ। বেঞ্চ থেকে লিভারপুলের দলপতি।
সুখকর সময়ের মধ্যে রেডন্যাপের জন্য অভিশাপ হয়ে আসে ইনজুরি। ২০০০/০১ সৌসুমে হাটুর ইনজুরিতে পরে হারিয়ে বসেন প্রাইম খেলা। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে অপারেশন করতে হয়। ফলস্বরূপ, ক্লাবের ট্রেবল ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি ( FA কাপ, লিগ কাপ এবং ইউরোপা লীগ) ।
২০০১/২ সিজনে ইনজুরি থেকে মাঠে ফিরলেও রেডন্যাপের প্রত্যাবর্তন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আবারও হাটুর বড় ইনজুরিতে পরেন। এরপর আর লিভারপুলে নিজের সেরাটা দিতে না পারায় চ্যাম্পিয়ান্স লীগের ডটমুন্ট ম্যাচের পর লিভারপুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
লিভারপুলের জার্সিতে জেমি রেডন্যাপ:
-৩০৮ ম্যাচ
-৪১ গোল
-২১ এসিস্ট
-কারাবো কাপ
-ইউরোপীয়ান সুপার কাপ
২০০০ সালে ১০০ লিভারপুলের প্লেয়ারদের লিস্ট 'দ্য কপ'-এ তাকে ৪০ নম্বরে রাখা হয়েছিল।
লিভারপুল ছাড়ার পর রেডন্যাপ যোগ দেন শৈশবের ক্লাব টটেনহামে। টটেনহামে আড়াইবছরে থেকে যোগ দেন সাউদাম্পটনে। যেখানের কোচ ছিলেন তার বাবা।
লিভারপুলের পর টটেনহাম, সাউদাম্পটন ঘুরে কোথাও লিভারপুলের প্রাইম টাইমের ফর্ম খুজে পাননি যদিও এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারন ছিলে তার হাটুর সেই অপারেশন। ইনজুরি কারনে অনেক সম্ভবনাময় মিডফিল্ডারকে হার মানতে হয় । ক্যারিয়ারে খুব বেশি ট্রফি জিতেন নায় তবে গ্রেট মিডফিল্ডার ছিলেন। লিভারপুলের রিসারজেন্স টাইমের হিরো ছিলেন।
আজ এই লিভারপুল কিংবদন্তীর ৫১ তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন জেমি রেডন্যাপ ❤️