13/08/2026
দেশে কেন তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে? কারেন্ট না থাকার কারণ কি? এর পেছনের কারণগুলো বিস্তারিত জানা দরকার।
★ ২১ জুলাই বাংলাদেশের একমাত্র ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মহেশখালীতে রহস্যজনকভাবে আগুন লেগে যায়। স্যাবোটাজের সম্ভাবনা প্রবল।
এর পরেই মুলত দেশে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল গ্যাস কয়লাভিত্তিক।
> এই টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাসের সাপ্লাই প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট কমে যায়।
> বর্তমানে এটা আংশিক মেরামত করে ফেলা হয়েছে এই কয়দিনেই। যার, ফলে ২৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ ব্যাক করা গেছে।
এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে একটু টাইম তো দিতেই হবে। তাও মাত্র ১ মাসেরও কম সময়ে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সাপ্লাই দেয়া শুরু হয়ে গেছে।
> এই টার্মিনাল সম্পুর্ন মেরামতের পর প্রায় আরও ৩০-৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সাপ্লাই যুক্ত হবে।
★ বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্যাপাসিটি প্রায় ৮, ০০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৫,৫০০ মেগাওয়াট।
কারণ কি? কারণ কয়লার সাপ্লাই। সুপার এল নিনো চলায় বঙ্গোপসাগরের ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ব্যাপক।
> এক পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমেছে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিলম্ব হওয়ার কারণে।
> বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় ৪০০-৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে।
রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে।
> বড়পুকুরিয়ার ৩টি ইউনিটের মধ্যে ২টি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ।
★ আদানি পাওয়ার এর চাপ এবং ৫৫,০০০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় হাসিনার আমলের বেসরকারি সকল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
> স্পেশালি ভারতের কুটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ থাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ অনেকাংশই আর দেশে আসছেনা।
> ভুটান থেকে হাইড্রো পাওয়ার আমদানিতেও নানা ধরনের ছক কষছে ভারত।
এখন আমার কিছু প্রশ্ন।
১. ইরান যুদ্ধ কি তারেক রহমান লাগিয়েছেন?
২. কাতারে এলএনজি ফ্যাসিলিটিতে হামলা কি তারেক রহমান চালিয়েছেন?
৩. বাংলাদেশে এলএনজি টার্মিনালে আগুন কি বিএনপি লাগিয়েছে?
৪. বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা সংকট এবং বন্যায় কয়লার চালান ক্ষতিগ্রস্থ কি বিএনপি করেছে কিনা?
৫. হাসিনার আমলের কুইক রেন্টাল এর ৫৫,০০০ কোটি টাকার বকেয়া কি তারেক রহমান করেছেন?
৬. দেশে তেল গ্যাস কয়লা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো বৈচিত্র না আনার দায়টাও কি তারেক রহমানের?
যদি উত্তরগুলো না হয়, তাহলে আমার মতে তীব্র লোডশেডিং আর গ্যাসের সমস্যার বাপারে সবার একটু সহনশীলতা দেখানো দরকার।
সরকার ইচ্ছা করে তো আর গ্যাস বিদ্যুৎ আটকায়ে রাখেনাই এই কমনসেন্সটুকু রাখতে হবে।
গায়ে পড়ে কি সরকার পাবলিকের গালি খাইতে চাইবে? একটু বাস্তবতা বুঝেন।
৬ মাসও হয় নাই একটা সরকারকে যদি সব দিক থেকে এত প্রেশার দেয়া হয়, তাহলে তো কোনো কাজ করাই সম্ভব না।
টার্মিনালটা মেরামত হোক, আবহাওয়া একটু লাইনে আসুক, গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ এমনেই স্বাভাবিক হবে। এগুলাতো সরকারের হাতে নাই।
সরকারের অনেক ভুল আছে যেগুলা নিয়ে সমালোচনা করা সম্ভব। কিন্তু গ্যাস বিদ্যুতের সমস্যার প্রকৃত কারণ না জেনেই এটাকে ইস্যু করা প্রবলেম্যাটিক বটে।
( collected)
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই কথা গুলো জনগণকে বুঝিয়ে বললে কি উনার চাকরী চলে যাবে? উনি মিডিয়ার সামনে জনগণকে খাম্বার গল্প শোনায়! মানে কোন লেবেলের হাস্যকর বেপার