20/08/2026
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি 🙂
১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হলেও তাঁর অধিকাংশ ক্ষমতা আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিকভাবে সীমাবদ্ধ।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে অন্যান্য সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
এর মধ্যে রয়েছে—সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভেঙে দেওয়া; সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান; জরুরি অবস্থা ঘোষণা; রাষ্ট্রদূত নিয়োগ; যুদ্ধ ঘোষণা; শান্তিচুক্তি অনুমোদন; ক্ষমা প্রদর্শনসহ রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব।
এমনকি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, কিংবা কী পরামর্শ দিয়েছেন—এ বিষয়ে কোনো আদালতেও প্রশ্ন তোলা যাবে না বলে সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে।
তাই বলা যায়, দুটি বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা মূলত আনুষ্ঠানিক। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতা বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেছেন, “সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো ক্ষমতা নেই।”