22/08/2026
আকবর আলী এইচপি, ইমার্জিং কিংবা অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের পাইপলাইনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দলেই নেই।অথচ একটা সময় এই আকবরকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হয়েছিল। প্রশ্নটা তাই থেকেই যায় কোথায় হারিয়ে গেলেন আকবর?
আগের বোর্ডের সময়ে ক্রিকেটারদের নানা ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হওয়ার ঘটনা ছিল নিয়মিত। সেই সময় কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে অনেক ক্রিকেটারই বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম করেছিলেন। কিন্তু আকবর ছিলেন ব্যতিক্রম। অন্যদের মতো তিনিও পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান জানাননি।
গুঞ্জন আছে, একটি পক্ষের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন আকবর। এরপর সময় গড়িয়েছে,বোর্ড বদলেছে, অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় দলের আশপাশে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু আকবরের ক্ষেত্রে সেই পথটা যেন ক্রমেই কঠিন হয়েছে।
অথচ বয়স,অভিজ্ঞতা আর পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই সময়ে তার জাতীয় দলের পাইপলাইনে আরও শক্ত অবস্থানে থাকার কথা ছিল। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পেরিয়ে ‘এ’ দল, এইচপি কিংবা ইমার্জিং দলের নিয়মিত মুখ হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা জাতীয় দলের দরজার আশপাশেও এখন তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা এখানেই ক্রিকেটারের মূল্যায়ন কি হওয়া উচিত মাঠের পারফরম্যান্সে,নাকি মাঠের বাইরের অবস্থান দিয়ে?
যদি সত্যিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান না নেওয়ার কারণে একজন ক্রিকেটারকে দীর্ঘদিন ধরে সুযোগের বাইরে রাখা হয়ে থাকে,তাহলে সেটি শুধু আকবরের জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।কারণ একজন ক্রিকেটারের সুযোগ পাওয়া না পাওয়া পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে যাচ্ছেন ৩৫ বছরের মোহাম্মদ মিঠুন।সামনে যদি জাতীয় দলেও সুযোগ পান অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্যদিকে আকবর আলী,যার হাতে একসময় বাংলাদেশের যুব ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছিল,যার নামকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে সামনে রাখা হয়েছিল তিনি এখন কোথায়?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।তবে একটা বিষয় পরিষ্কার ক্রিকেটে প্রতিভার মূল্যায়ন যদি সত্যিই মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হয়,তাহলে আকবরের মতো একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।