10/01/2026
১৮৫৮ সালে একটি থানা থেকে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৫ সালে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়ে বর্তমানে দাউদকান্দি উপজেলা ০১ টি পৌরসভা ও ১৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে অবস্থিত।
আজ ০৯ ই জানুয়ারী ২০২৬ ইং দাউদকান্দি সাইক্লিস্টস এর ৮৫ তম রাইড ছিল ঐতিয্যবাহী এ উপজেলার সমস্ত ইউনিয়ন ও পৌরসভা একদিনের মধ্যে ভ্রমণের চেলেঞ্জ নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ কোন দুর্ঘটনা ছাড়া সুস্থভাবে সবাই রাইড শেষ করে যার যার বাড়িতে ফিরে যেতে পেরেছে। নিচে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন এ গিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ও ওই ইউনিয়ন এর সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরার সামান্য চেষ্টা করলাম। ভুল ত্রুটি অবশ্যই মার্জনীয়।
1. দাউদকান্দি পৌরসভা- দাউদকান্দি উপজেলার একমাত্র পৌরসভা । দাউদকান্দি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সুসজ্জিত, কিন্তু বন্ধ থাকার কারণে আমরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারি নি, যার ফলে উপজেলা ভবনের সামনে থেকে ছবি তুলে চলে আসতে হয়েছে!
2. গোয়ালমারী ইউনিয়ন- দাউদকান্দি পৌরসভার পাশের ইউনিয়ন হয়েও এই ইউনিয়নের অবস্থা প্রায় সূচনীয়। ছবি তে দেখা যাচ্ছে যে ইউনিয়ন পরিষদ এর নিজস্ব কোন ভবন নেই, যা একটা ছোট রোম আছে সেটাও সম্ভবত ভূমি অফিসের কাজে ব্যবহৃত হয়, স্থানীয় লোকেদের ব্যবহার ও তেমন বন্ধুসুলভ নয়। তবে রাস্তাঘাট খুব ভালো।
3. পদুয়া ইউনিয়ন- রাস্তার একটু ভিতরে সুন্দর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রয়েছে, সাজানো গুছানো নয় তবে চলনসয়ী।
4. পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন- দাউদকান্দি উপজেলা থেকে প্রায় অনেক দূরে অবস্থিত একটু জরাজীর্ণ ইউনিয়ন। অনেক ভিতরের দিকে ইউনিয়ন পরিষদটি অবস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদে যেতে যে ৫-৬ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়েছি প্রায় সম্পূর্ণ অংশের রাস্তাই ভাঙা, এবং প্রায় অংশই ছিলো মাটির এভ্র-খেবড়ো রাস্তা। এ ইউনিয়নের অন্তত রাস্তার উন্নয়ন করা দরকার।
5. দৌলতপুর ইউনিয়ন- পূর্বে পাচগাছিয়া পূর্ব নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে এই ইউনিয়নের নাম দৌলতপুর ইউনিয়ন। ইউনিয়নের নিজস্ব কোন ভবন ভা কার্যালয় নেই। পালের বাজারে একটি ভাড়া বিল্ডিং এর দোতালায় প্রায় নীরবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে। তাই আমরা ইউনিয়নের ভাড়া বিল্ডিং এর সামনে ছবি না তুলে দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছবি তুলেছিলাম।
6. মারুকা ইউনিয়ন- দাউদকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়ন, রাস্তাঘাট কিছু অংশে কাচা, কিছু অংশে পাকা। রাস্তা প্রায় ভালোই এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ছিলো পরিপাটি এবং সুন্দর। সেখানে গিয়ে দেখা হয়েছিল স্থানীয় কিছু সাইক্লিস্ট ভাই দের সাথে, তাদের ব্যবহার ও ছিলো ভালো। সবমিলিয়ে প্রাকৃতিক দিক বিবেচনায় খুব সুন্দর ইউনিয়ন।
7. বিটেশ্বর ইউনিয়ন- গৌরীপুর- মতলব, চাঁদপুর সড়কের পাশেই অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি। তবে এটাকে ঠিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন বলা যায় না। সাধারণ একটা বাসার সামনে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর একটি লিফলেট টাঙ্গানো। না টাঙ্গানো থাকলে হয়তো বুঝাই যেত না যে এটা একটা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। অস্থায়ী ভবন সম্ভবত। রাস্তাঘাট প্রায় ভালোই, তবে ভিতরের দিকে ভাঙা আছে অনেক।
8. মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন- ইউনিয়নটির নিজস্ব ভবন রয়েছে এবং অবাক করা বিষয় হলো ভবনের চারদিক টাইলস দিয়ে মোড়ানো। যেখানে প্রায় অনেকগুলো ইউনিয়নে তাদের নিজস্ব কোন ভবন নেই সেখানে এই ইউনিয়ন পরিষদের ভবন টাইলস দিয়ে মোড়ানো। ভবনের পরিবেশ সুন্দর, ভবনের সীমানার মধ্যে বিভিন্ন ফুল, ফলের গাছ লাগানো, পাশেই আছে কমিউনিটি ক্লিনিক। সবদিক বিবেচনায় খুব সুন্দর একটি ইউনিয়ন।
9. মালিগাঁও ইউনিয়ন- রাস্তার পাশেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি অবস্থিত। দাউদকান্দি উপজেলায় ১৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে গৌরীপুর ইউনিয়নের পর সবচেয়ে ভালো ও সুন্দর রাস্তা রয়েছে এই ইউনিয়নে। প্রায় প্রত্যেকটা রাস্তাই নতুন ও অক্ষত। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও গুছানো, ফুল ফলের গাছ দিয়ে সাজানো। একমাত্র ইউনিয়ন হিসেবে এই ইউনিয়নে রয়েছে ৫০ সয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল, যা এলাকার মানুষদের ও সমগ্র উপজেলার মানুষদের উন্নত চিকিৎসা প্রধান করে থাকে।
10. ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন- ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে অনেক ভিতরে ২/৩ দিকে প্রজেক্ট পুকুর দারা বেষ্টিত হয়ে অবস্থিত এটি। রাস্তার কাজ কিছু কিছু অংশে চলমান ও কিছু কিছু অংশে রাস্তার মান খুবই খারাপ। সাধারণ যে কেউ অজানা মানুষের এই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন খুঁজে পেতে অনেক বেগ পোহাতে হবে।
11. ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন- ইলয়টগঞ্জ বাজারের পাশেই ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। ইউনিয়ন এর বাকি দিক যাওয়া হয় নি।
12. জিংলাতলী ইউনিয়ন- ঢাকা - চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত ইউনিয়ন এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন তেমন বড় বা সাজানো গুছানো নয়।
13. বারপাড়া ইউনিয়ন- ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার রাস্তা
তেমন ভালো ছিলো না, তবে জাতীয় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ার কারণে ইউনিয়নটি অনেক উন্নত। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও ছিলো বড় ও সাজানো গুছানো।
14. সুন্দলপুর ইউনিয়ন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি। ইউনিয়নের রাস্তার অবস্থা খুবই ভালো এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও ছিল নতুন। সাজানো গুছানো।
15. গৌরীপুর ইউনিয়ন- সম্ভবত দেশের সবচেয়ে উন্নত ইউনিয়ন। উপজেলা সহ আশেপাশের সব উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার গৌরীপুর, রাস্তাঘাটের মান খুবই ভালো এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ছিলো সমগ্র উপজেলা সহ আশেপাশের সব উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে উন্নত, পাশেই ছিল সুন্দর একটি পার্ক। ভালো দিকের পাশাপাশি গৌরীপুরের খারাপ দিক হলো এই বাজারে প্রায় সব সময়ই যানজট লেগেই থাকে।
দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়নে সকাল বেলা যাওয়ার প্ল্যান থাকলেও অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে সেখানে যেতে পরই নি। যেহেতু দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়নে বর্তমানে নৌপথই হলো যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন বেতিত বাকি সব ইউনিয়ন ঘুরে দাউদকান্দি সাইক্লিস্টস এর ৮৫ তম উইকলি রাইড টি শেষ করা হয়েছিল।