15/07/2024
বিকাল চারটা
স্কুলে আমাদের সিনিয়র ভাই,আমার ব্যাচমেট পাশাপাশি বেশ কয়েক জুনিয়ররা এসে জড়ো হয়।নিজেদের হাতে তৈরি প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসে আলোচনা করতে থাকে আজকের মানববন্ধনটা কিভাবে শুরু করা যায় কতদূর পর্যন্ত যাওয়া যায়।সবাই মিলে ৫০/৪০ জন এর মত ছিলো।
বিকাল ৪:২০
কথিত লীগের(you know which college) দুইজন স্কুলে প্রবেশ করেন।২১ ব্যাচের একজনের হাতে একটা ব্যানার ছিলো।তিনি ব্যানার হাতে নিয়ে সবার সাথে কথা বলা শুরু করেন।তার কথার সারাংশ হচ্ছে,
"বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কিভাবে কেউ নিজেকে রাজাকার দাবি করে?"
"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো আপনাদের রাজাকার বলেননি।আপনারা কথা বুঝতে পারেন নি।"
"আসলে আমরাও কোটা সংস্কারের পক্ষে এবং আমরাও কোটা আন্দোলনে আপনাদের সাথে আছি।"
উনার সাথে আমার ব্যাচমেট এবং বাকিদের জবাব ছিলো এরকম,
"ভাইয়া আমি আপনাকে আবার দেখাই প্রধানমন্ত্রী কি বলেছেন।(দেখানোর পরে)দেশের সবচেয়ে উচ্চ মহল থেকে এমন কথা কেউ বলতে পারেন না এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।"
"আমরা আসলে শুধু মানববন্ধন করবো।আমরা মানুষও এত বেশি না যে রাস্তা ব্লক করে রাখবো।কোন বিষয়ে এভাবে মানববন্ধন করা আমাদের অধিকার আছে।"
Meanwhile:
হাফিজ স্যার পিছনের গেইট দিয়ে বের হয়ে গেছেন।আসলে তিনি কিছু বুঝতে পেরেছেন কি না তা জানা নাই তবে তাকে চলে যেতে দেখেছে সবাই।
বিকাল ৪:৪০
কথিত নেতার কলে প্রায় ১০০ জন "লীগ" প্রবেশ করে আমার স্কুলে।কথার ফাঁকেই আমাদের ১৬ ব্যাচের বড় ভাই অহি ভাইকে (বুয়েট-মেকানিক্যাল) টানাহেঁচড়া করে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।সাথে সাথে আমার ব্যাচমেট এবং বাকিরা ভাই এর পিছনে যাওয়ার চেষ্টা করে।
তখনই সবাই এলোপাতাড়ি লাথি,ঘুষি মেরে ছেলেদের উপর আক্রমণ শুরু করে।তাদের উদ্দেশ্য অহি ভাইকে পুরোপুরি আলাদা করবে।
এরপর ভাগাভাগি শুরু হয়।ভিক্টোরিয়া কলেজের যারা ছিলো তাদের আলাদা করা হয়।আমার ব্যাচমেট যারা বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো তাদের আলাদা করা হয়।
যারা বুয়েটের তাদের আলাদা করে রাখা হয়।
I repeat,তাদের ইচ্ছাকৃত এমনভাবে আলাদা করা হয় যেন ব্যক্তিগত আক্রোশে কেউ আক্রমণ করতে যাচ্ছে।
প্রত্যেকের মোবাইল চেক করা শুরু করে।
Meanwhile:
হাফিজ স্যারকে বারবার কল দিয়ে আমাদের দাড়োয়ান আংকেল পাচ্ছিলেন না।অবশেষে তাকে কলে পাওয়া যায় এবং দ্রুত আসতে বলা হয়।
স্কুলের দেওয়ালের বাইরে থেকে ককটেল টাইপের বিস্ফোরক কিছু স্কুলের ভিতরে ফুটবল মাঠে ফেলা হয়।পর পর দুবার প্রচন্ড জোরে বিস্ফোরক ফেটে উঠে।
আমাদের ব্যাচমেট,জুনিয়রকে তাদের মোবাইল বের করতে বলা হয় এবং তাদের মোবাইল চেক করা শুরু করে।যখনই কারোর আইডিতে বা ইনবক্সে কিছু পেয়েছে প্রচন্ড মারধর করেছে।আমার বন্ধু মার খেয়েছে।আমার জুনিয়র মার খেয়েছে তাদেরই স্কুলে।
আর মেরেছে তারা যাদের বংশে এই স্কুলের ধূলা মারানোর যোগ্যতাও নেই।
একটা ছেলেকে দশটা শুয়োরে মিলে মারছিলো।
Meanwhile:
হাফিজ চলে আসেন আর তিনি বলেন
"তোমরা প্রাপ্তন ছাত্র।তোমরা নিজেদের স্বার্থে স্কুলকে ব্যবহার করছো।তোমরা এটা করতে পারো না।"
আপনার জন্য একটা কথাই বলবো স্যার
আজ রাশেদা আপা স্কুলে থাকলে এ ঘটনা ঘটতো না।
এদিকে অহি ভাই এবং তার সাথের একজনকে প্রচন্ড মারধর করা হয়।সবচেয়ে বেশি মারা হয় উনাকে।
I repeat, বুয়েটের স্টুডেন্ট যারাই ছিলো তাদের উপর প্রচন্ড আক্রোশ ছিলো তাদের।অহি ভাই ব্যথায় স্যারদের ডাকতে থাকেন,জিয়া স্যার আজাদ স্যার সব দেখছিলেন আর শুধু দাঁড়িয়ে থেকে বলছিলেন এসব বন্ধ করতে।যন্ত্রণায় কাদছিলেন অহি ভাই ।শেষে জিয়া স্যার বেরিয়ে আসেন এবং আরো বেশ কিছুক্ষণ পরে শুয়োর গুলো এসব বন্ধ করে।
অহি ভাইয়ার অবস্থা ভালো না।সবাই দোয়া করবেন।
কুমিল্লার এক ঐতিহ্য জিলা স্কুল।এখানে ডুকতে হলেও যোগ্যতা লাগে।আর সেখানে শুয়োর ডুকে আজ এসব করে গেছে।
লজ্জা!!