24/06/2026
স্ট্রাইকিং রোনালদো।
গত দুইদিন ধরে লিখছি, একের পর এক।
গতকাল রাতে পর্তুগাল vs উজবেকিস্তানের ম্যাচ টা ছিলো ফাটাফাটি একাকার। গোল করেছেন সবচেয়ে বেশি গোল করা বিস্ট ক্রিস্চিয়ানো রোনালদো। গত ৪৮ ঘন্টা ছিলো জোড়া গোলের রাত। এবং সত্যি বলতে রোনালদোর গোল গুলো দরকার ছিলো সবচেয়ে বেশি।
কঙ্গোর সাথে একটা ড্র ম্যাচ দিয়ে শুরু করাই অনেকেই ভেবেছেন রোনালদো ফিনিশ, ওর ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে গিয়েছে। কথাটার যুক্তি কিছুটা থাকলেও রোনালদো তো আর যুক্তি মানেনা, সে আবারও জোড়া গোলে বুঝিয়ে দিলো বয়সটা বাড়লেও কমেনি জেতার সেই জিদ, গোল করার সেই ক্ষমতা। সমালোচনার জবাবটাও তিনি বরাবরের মতো মাঠেই দিয়েছেন।
অনেকের মতে আপনি যদি একটা সার্টেইন ফ্যানবেস থেকে বিলং করেন, বাকি সব দল-খেলোয়াড় আপনার শত্রু। কিন্তু ফুটবল তো একটা আর্ট। এখানে আপনার আর্টিস্টদের অবশ্যই সম্মান করতে শিখতে হবে।
দারুণ একটা রাত কাটলো রোনালদো ভক্তদের জন্য। দৃষ্টিনন্দন সব কর্মকাণ্ডে রাতটা রোমাঞ্চকর হয়ে উঠলো। তবে শুধু গোল নয়, ৪১ বছর বয়সেও তাঁর অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট, পজিশনিং আর ফিনিশিং এখনও বিশ্বমানের। ম্যাচজুড়ে বারবার এমন সব রান আর পজিশন নিয়েছেন যা একজন স্ট্রাইকার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ক্লাসকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ট্যাপইন রোনালদো বলে শাউট করার আগে ট্যাপইন টা একটু দেখিয়েন। ওয়ান-টাচ ফিনিশিং, হোয়াট এ ফিনিশিং! নুনো মেন্ডিসের ফ্রি-কিকটা কি নৈপুণ্য! সবার ধারণাকে ব্লান্ডার করে দিয়ে কিভাবে রোনালদো নিজেকে ডামি হিসেবে ব্যবহার করেছে তা আসলেই সুন্দর। এমন ডামি সেটআপ করতে দেখতাম ২০০২-২০০৬ সময়ে রবার্টো কার্লোস আর রোনালদিনহোর আমলে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিলো বলা চলে দ্বিতীয় ফ্রি-কিকটা। কিভাবে এক্সিকিউটেড সেট-পিস প্ল্যান করতে হয়, তা বোধহয় পর্তুগাল দেখিয়ে দিয়েছে।
বহু বছর পর সেই চিরচেনা সেই দৌড়! চোখের শান্তি! সেই ২০১৭ সালের রোনালদোর কথা মনে পড়লে হঠাৎ করে স্প্রিন্ট নিতো যে রোনালদো, গতকাল যেন তার কিছুটা ঝলক আবারও দেখা গেল।
হ্যাটট্রিকটা হতে পারতো অনেক সহজেই। বেশ কিছু সুযোগ ছিল, কিন্তু কপাল সবসময় সহায় হয় না। তবুও জোড়া গোলের এই রাতে আরেকটি ইতিহাস নিজের নামে লিখে নিয়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি।
উজবেকিস্তান এশিয়ার ২য় শক্ত দল বললে ভুল হবেনা। তাদের বিট করা টা অন্য আট-দশটা ইউরোপীয় দল থেকে কিছুটা সহজ হলেও পানি ভাত তো নয়। গতকাল চিন্তা করেছিলাম হ্যাটট্রিক হবে রোনালদোর, চেষ্টার কমতি ছিল না, কিন্তু কপাল তো আর সবসময় সাথে দেয় না।
গোল দুটির বাইরেও চোখে পড়েছে তাঁর নেতৃত্ব। তরুণ খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়া, আক্রমণ সাজানো, দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া— সব মিলিয়ে একজন অধিনায়কের প্রভাব পুরো ম্যাচজুড়েই স্পষ্ট ছিল।
যাইহোক, ভক্তদের উল্লাসে মেতে উঠুক বিশ্বকাপ। জেগে উঠুক রোনালদো, গোল করুক, অ্যাসিস্ট করুক— এটাই কামনা।
আমরা চাই এই বিশ্বকাপটা সব লিজেন্ডদের জন্য স্মরণীয় হোক। রোনালদো গোল দিয়ে যাক তার চিরচেনা রূপে, হোক না আরেকটা সেই আইকনিক সিউউ সেলিব্রেশন, সেলিব্রেট করি আবারও।
সত্যি বলতে এই বিশ্বকাপটায় আপনারা কম্পারিজন করিয়েন না— কে সেরা, কে কার থেকে বেশি গোল করছে, কোন দল অপেক্ষাকৃত ছোট দলের সাথে খেলছে। এটা আমাদের চিরচেনা লিজেন্ডদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ। এভাবে কম্পেয়ার করে খেলার মাধুর্যটা নষ্ট করবেন না। উপভোগ করুন না তাদের শেষ সময়টা।
গোলের হিসাব, ট্রফির হিসাব, রেকর্ডের হিসাব একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু একটা প্রজন্মকে ফুটবলের প্রেমে ফেলার গল্পটা থেকে যাবে। আর সেই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্রের নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
অনেকেই জানেন আমার প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় কে। কিন্তু আমি চাই সবসময় নিউট্রাল হয়ে লেখালেখি করতে। তাও কোনো ভুল-ত্রুটি দেখলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। বায়াসড হতে চাই না, একজন প্রকৃত ফুটবলপ্রেমী হতে চাই।
✍️ জায়েদ