22/11/2024
বাংলাদেশের টেস্টযাত্রার ২৫ বছর চলছে। অভিষেক হয়েছে ১০০ এর বেশি ক্রিকেটারের, যার মাঝে ৩৫ জনের বেশি ছিলেন পেস বোলার। অথচ, অথচ টেস্টে বাংলাদেশের মাত্র দুইজন পেসার ৫০ উইকেটের মাইলফলক পার করেছে। মাত্র ৫০ উইকেট; খুব কি বড় ক্রাইটেরিয়া? গত ১০ বছরে ৪৩ জন পেসার যেখানে ৫০ উইকেট নিয়ে ফেলেছেন, সেখানে ২৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের মাত্র দুইজন পেসারের এই কৃতিত্ব আছে, ১০০ উইকেট তো দূরের কথা!
বাংলাদেশের হয়ে পেসারদের মাঝে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীরা: (১৮ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত)
মাশরাফি: ৭৮ (৫১ ইনিংস, ৭৭ স্ট্রাইকরেট)
শাহাদাত: ৭২ (৬০ ইনিংস, ৭৫ স্ট্রাইকরেট)
ইবাদত: ৪২ (৩১ ইনিংস, ৭৯ স্ট্রাইকরেট)
তাসকিন: ৩৮ (২৮ ইনিংস, ৭৩ স্ট্রাইকরেট)
তাপস: ৩৬ (২৯ ইনিংস, ৯৪ স্ট্রাইকরেট)
রুবেল: ৩৬ (৪৪ ইনিংস, ১১৭ স্ট্রাইকরেট)
মুস্তাফিজুর: ৩১ (২৫ ইনিংস, ৬৯ স্ট্রাইকরেট)
আবু জায়েদ: ৩০ (১৮ ইনিংস, ৬৫ স্ট্রাইকরেট)
মাঞ্জারুল: ২৮ (২২ ইনিংস, ১০৬ স্ট্রাইকরেট)
খালেদ: ২৮ (২৬ ইনিংস, ৮৪ স্ট্রাইকরেট)
রবিউল: ২৫ (১৭ ইনিংস, ৭৪ স্ট্রাইকরেট)
শরীফুল: ২৫ (১৯ ইনিংস, ৬৪ স্ট্রাইকরেট)
হাসান: ২৩ (১২ ইনিংস, ৪৮ স্ট্রাইকরেট)
একটা দেশের সেরা দশ-পনেরোতে থাকা পেসারদের উইকেটসংখ্যা ২০ থেকে ৩০ এর ঘরে! এমনকি হাসান মাহমুদ মাত্র ১ বছর বল করেই প্রায় সেরা দশে চলে আসছেন! অর্থাৎ দেশের পেসারদের এমনই অবস্থা যে এখান থেকে একজনকে সেরা বলাটাও বিলাসিতা।
মাশরাফি ২০০৯ ইঞ্জুরির কবলে পড়ে সাদা পোশাক থেকে দূরে চলে না গেলে হয়তো আরো সমৃদ্ধ হতে পারতেন। শাহাদাত লর্ডসে নাম লেখানোর পর একেবারেই নির্বিষ ছিলেন, তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটা ম্যাশের মত ইঞ্জুরিতে পড়েই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে শেষ করেছেন।
তিনে আছেন ইবাদত, যিনিও একসময় ছিলেন মোস্ট ট্রল্ড বোলার। কিন্তু ২০২২ এ দারুণ কামব্যাক দিয়ে যখন ফেরা শুরু করলেন, ইঞ্জুরির জন্য তিনি বাইরে চলে গেছেন ১ বছরের বেশি সময়ের জন্য৷ ৫০ উইকেট উনারও পাওয়া হলো না, ফিরে এসে কতটুকু ধার থাকবে কে জানে?
চারে আছেন তাসকিন। যিনি টেস্টে থাকলেও মাঝে টেস্ট থেকে বিরতি চেয়েছিলেন, তবে গুঞ্জন আছে, আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও তাসকিনকে জোর করে ম্যানেজমেন্ট টেস্ট খেলাচ্ছে।
পাঁচে আছেন তাপস, যিনি বাংলাদেশের শুরুর সময়ের বোলার। রুবেলের টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে কথা না বললেই ভালো। মুস্তাফিজও টেস্টে অনীহা জানিয়েছেন, লাল-বলে তাকে আর দেখা যাবে মনে হয়না। যদিও মাঝে মাঝে ভাবি, মিরপুরের ভরপুর স্পিনিং উইকেটে এমনেই স্পিনার হিসেবে এক দুইটা ম্যাচ খেলায়ে দিলেই পারে (হেহে)। রাহীর রেকর্ড ভালো হলেও উনাকে এখন ঘরোয়াতেই খেলতে দেখা লাগবে, জাতীয় দলে ফেরার আশা নেই তেমন।
এরপরেই আসে ২০ এর ঘরের পেসাররা। খালেদ আহমেদ, যিনি ভারত টেস্টে খুব বাজে করেছেন। শরীফুলের রেকর্ড ভালো হলেও ইদানিং একটু অফ-ফর্মে আছেন, ফরম্যাট বুঝে খেলাবে হয়তো ম্যানেজমেন্ট। রবিউল-মাঞ্জারুল এখন আর খেলোয়াড় নন।
বাকি থাকে হাসান মাহমুদ! এই বছরেই টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করে দুর্দান্ত একটা ফর্মে আছেন তিনি। দুইদিকে এত সুন্দর সুইং বাংলাদেশের আর কোনো পেসার ধারাবাহিক করেননি। এক বছরে টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বাংলাদেশী পেসার এখন যৌথভাবে শাহাদাত ও হাসান। ২০০৮ সালে শাহাদাতের নেওয়া ২৩ উইকেটকে হাসান ক্রসই করে ফেলতেন যদি দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে ডি জোরজির ক্যাচ মাহিদুল তালুবন্দি করতে পারতো। হয়নি, তবে আশাবাদী ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে সেটা হয়ে যাবে। প্রস্তুতি ম্যাচে যে দুর্দান্ত এক বলে উইন্ডিজ কাপ্তানকে আউট করেছে হাসান, মূল ম্যাচে ধারাবাহিকতা থাকবে আশা করাই যায়।
বাংলাদেশের সব পেসারই ইঞ্জুরির কবলে ক্যারিয়ার বড় করতে পারে না। তাই ৫০ উইকেট নেওয়া পেসার মাত্র ২ টা! আশা করি হাসান মাহমুদ নিজেকে ফিট রাখবে, ম্যানেজমেন্টও তার উপরে আস্থা রাখবে। আমার চোখে বাংলাদেশের সেরা টেস্ট পেসার হওয়ার সক্ষমতা আছে হাসান মাহমুদের। ইন ফ্যাক্ট, আমি ইতোমধ্যেই হাসানকে দেশের ইতিহাসের সেরাদের কাতারে রাখতে অনাপত্তি জানাই না, কারণ ওই যে এখানে সবার রেকর্ড এমন যে, সেরা ভাবাটাও বিলাসিতা।
Credit: Neoteric Talkies