09/12/2025
প্রসঙ্গ: উপজেলা প্রশাসন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।
জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হলো লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। আমিরাবাদ ইউনিয়নকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন পদুয়া। তবে ফাইনালে অনেক ভালো খেলা উপহার দিয়েছে টুর্নামেন্টে হট ফেবারিট তকমা নিয়ে শুরু করা আমিরাবাদ ইউনিয়ন।
পদুয়া এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন ফুটবল টিমকে অভিনন্দন।
টুর্নামেন্ট তো শেষ হলো তবে কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা দরকার। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই সোস্যাল মিডিয়ায় টিকিট প্রসঙ্গে তুমুল আলোচনা/সমালোচনা ছিলো। তবে টিকেটের পক্ষে দাবি ছিলো লোহাগাড়ার ক্রীড়ার মানোন্নয়নে টিকেট সিস্টেম সহায়ক হবে এবং টুর্নামেন্টের ব্যয় মেটাতে স্পন্সর/ডোনার কিংবা রাজনৈতিক ব্যাক্তদের দ্বারে দ্বারে না দৌড়ানো৷ যা ইতিবাচকই বলা চলে। শেষ পর্যন্ত টিকেট সিস্টেমই বাস্তবায়ন হলো এবং টিকেট সিস্টেম সফল হলো। তবে যে সিস্টেমে আমার সমস্যা মনে হয়েছে সেটা হচ্ছে ৩ জন বাইরের প্লেয়ারসহ একাদশ মাঠে নামানো। এতে টিম ম্যানেজমেন্টের যেমন সমস্যা হয়েছে তেমনি লোকাল প্লেয়ারদের সবচেয়ে বেশী সমস্যা হয়েছে। অনেক প্রতিভাবান প্লেয়ার পজিশনওয়েজ খেলতে পারেনি এবং অনেকেরই পজিশনের কারণে বসে থাকতে হয়েছে। আর সবচেয়ে বেশী সমস্যাটা চোখে পড়েছে বাইরের/ফরেনার প্লেয়ার আনতে গিয়ে প্রতি ম্যাচেই লাখ-দেড়েক টাকার ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিটি দলই হিমশিম খেয়েছে৷ ইউনিয়ন পরষিদের তো টিমের সকল ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা নেই যেকারণে প্রত্যেকটা টিমেরই ডোনেশনের জন্য বিভিন্ন ব্যাক্তির দ্বারে, দ্বারে ছুটতে হয়েছে। যে পরিমাণ ফান্ড ক্রিয়েট হয় ওই ফান্ডে কোনরকম একটা ম্যাচ শেষ করা যায়। ফাইনাল খেলা পদুয়া এবং আমিরাবাদ আর সেমিফাইনাল খেলা বড়হাতিয়ার তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তিনটি ম্যাচ পর্যন্ত একেকটা দলের মিনিমাম চার-পাঁচ লাখ কিংবা তারো বেশী টাকা খরচ হয়েছে। এই পরিমাণ খরচ করে লোকাল প্লেয়াররা কি ফেলো? ইনজুরড হওয়া প্লেয়াররা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তাও পায়নি সেখানে অন্যান্য প্লেয়ারদের কথায় আসে না। পা ভেঙ্গে ফেলা প্লেয়ারের পোস্টে আর্তনাদ আমরা দেখেছি। দেখিনি আড়ালে, নিরবে সয়ে থাকা টুকিটাকি অনেক ইনজুরড প্লেয়ারের আর্তনাদ। একাদশে ৩ জন কোটা সিস্টেমের কারণে টিমের প্রায় ৭০% ফান্ড ওদের পেছনেই খরচ হয় আর লোকাল প্লেয়াররা থাকে টুর্নামেন্ট শেষে হতাশায়৷ আর হতাশা থেকে লোকাল খেলোয়াড়রা ক্রিড়াবিমুখ হয়ে যায়। খেলা ছেড়ে ঢুকে পড়ে অন্য প্রফেশনে। তাই আগামী টুর্নামেন্টে বাইরের প্লেয়ারের কোটা সিস্টেম বাদ দিয়ে লোকাল প্লেয়ারদের নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করলে লোকাল প্লেয়াররা অন্তত উপকৃত হবে আর প্রতিভাবান প্লেয়ার উঠে আসবে।
টুর্নামেন্টের আয়-ব্যয় বিবরণী এবং আয় কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা স্টেটমেন্ট দিলে জনমনে ক্রীড়ার প্রতি আন্তরিকতা আরো বাড়বে।
#সংগ্রহ