20/04/2024
এক অদ্ভুত প্রেরণাদায়ক কাহিনী
ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু
পালি সাহিত্যে বিরাগ বা বৈরাগ্যের অনেক প্রেরণাদায়ক কাহিনীতে ভরপুর রয়েছে। বুদ্ধ তথাগতের অশীতি মহাশ্রাবকের অন্যতম ভদন্ত রেবত স্থবিরের জীবন কাহিনী হল প্রব্রজ্যিত ভিক্ষু শ্রামণদের অরণ্য বাসের জন্য প্রেরণা লাভ করতে তেমন তর এক অতীব উপযোগী প্রেরণাদায়ী আদর্শ। আজ এখানে সে বিষয়ে আলোচনা করব। ভগবান মহাকারুণিক সর্বজ্ঞ বুদ্ধ খৃষ্টপূর্ব ৪৮৫ অব্দে ঘোষণা করেছিলেন-‘আমার শ্রাবকদের মধ্যে ভিক্ষু রেবত হল অরণ্যবাসীদের মধ্যে অগ্র।’
রেবতের বিবাহ সাত বছর বয়সে শৈশবেই হয়েছিল। বিবাহের দিন হবু স্ত্রীর একশত বিশ বছর বয়সী দাদীকে দেখেই তিনি যে বিবাহ আসর হতে পালিয়ে যাবেন তা তিনি এবং তাঁর স্ত্রীও জানতেননা। এরকম পরিস্থিতির যে সম্মুখীন হবেন, তা কখনও তাঁরা চিন্তাও করেননি।
রেবত ছিলেন ধম্মসেনাপতি সারিপুত্র স্থবিরের সর্ব কনিষ্ট ভ্রাতা। একের পর এক গৃহত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন দেখে সারিপুত্রের মাতা অনেক দুঃখী হয়েছিলেন। তিনি ভগবান তথাগতের ধম্মে বিশ্বাসী বা শ্রদ্ধাশীলা ছিলেননা। অন্ততঃপক্ষে কনিষ্ট সন্তান ছোট্ট রেবতকেই ঘরে রেখে পরম্পরা রক্ষা করতে ইচ্ছা করেছিলেন। এজন্য সাত বছর বয়সে তিনি রেবতকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে আয়োজন করলেন।
বিশাল সম্পত্তিকে ত্যাগ করে সারিপুত্রের প্রব্রজ্যিত হওয়ার পর তাঁর চালা, উপচালা ও শিশুপচালা এ তিন বোন এবং চন্দ্র ও উপসেন এ দু’ ভাই সকলেই প্রব্রজ্যিত হয়েছিলেন। তাঁরা সবাই ভদন্ত সারিপুত্রের জীবনাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। যদ্বারা তাঁরা জেষ্ঠ ভ্রাতাকে অনুকরণ করেছিলেন। তখন কনিষ্ট রেবতই কেবল ঘরে অবশিষ্ট ছিলেন।
মাতা রূপসারি পুত্র সারিপুত্রের সাথে বিশেষভাবে ক্রোধান্বিত ছিলেন। কেননা তিনি চিন্তা করতেন যে, জেষ্ঠ পুত্র সারিপুত্র সবাইকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছেন। মাতা এ বিষয়ে ভয় করতেন যে, হয়তো কোনো দিন তিনি রেবতকেও ঘর হতে বের করে নিয়ে যাবেন।
বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পরে বরযাত্রী বিদায় হওয়ার সময় জেষ্ঠ জনেরা বর-বধূকে আশীর্বাদ প্রদান করেছিলেন। তাঁদের আশীর্বাদ ছিল এরকম-‘তোমরা তোমাদের দাদীর মত দীর্ঘায়ু সম্পন্ন হও।’
‘কোথায় আমাদের দাদী?’ তাঁকে দেখার জন্য রেবতের ইচ্ছা হল। দাদীকে এনে লোকেরা দেখালেন। তিনি একশ’ বিশ বছর বয়স্কা বৃদ্ধা ছিলেন। তাঁকে দেখে রেবত ভাবতে লাগলেন আমার স্ত্রীও একদিন এরকম জরাজীর্ণ হবে। তখন জীবনের আর কি থাকবে? এরূপ অনিত্যতা উপলব্দি করে তিনি ঘর হতে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। বরযাত্রী কিছু দূর চলে যাওয়ার পর তিনি শৌচালয়ে যাওয়ার বাহানা করলেন। তিনি যান হতে নেমে পড়লেন এবং একটি ঝোঁপ-ঝাঁড়ময় এলাকায় গেলেন। শিশু বধূ এবং বরযাত্রী তাঁর অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু তিনি ফেরত আসেননি।
রেবত পালিয়ে গিয়ে নিকটস্থ বিহারে চলে গেলেন। তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করলেন। তাঁর পরিচয় পাওয়া মাত্রই তাঁকে প্রব্রজ্যা প্রদান করা হল। বলা হয় যে, রেবতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জেনে ভদন্ত সারিপুত্র স্থবির অন্যান্য ভিক্ষুদেরকে পূর্বেই বলে রেখেছিলেন যে, মাতা-পিতার অনুমতি ছাড়াই তাঁর ভাই রেবতের আসা মাত্রই প্রব্রজ্যা প্রদান করতে।
রেবতের প্রব্রজ্যা সমাচার শুনে ভদন্ত সারিপুত্র তাঁকে দেখার জন্য ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি এ সম্বন্ধে ভগবান বুদ্ধের সাথে আলোচনা করলেন। তথাগত বুদ্ধ বলেছিলেন—‘সারিপুত্র! এত ত্বরা করোনা। কিছু দিন অপেক্ষা করো। আমিও সাথে যাব রেবতকে দর্শনের জন্য।’
রেবত স্বীয় উপাধ্যায়ের সাথে অবস্থান করে শিক্ষা গ্রহণ করার পর সেখান হতে গভীর জঙ্গলে খদিরবনে চলে গিয়েছিলেন। তথায় একান্তে সাধনা করে তৃষ্ণা বিমুক্ত হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি অরহত্ব অবস্থায় উপনীত হলেন। বর্ষাবাস তিনি খদিরবনেই অতিবাহিত করেছিলেন।
কিছুদিন পরে ভদন্ত সারিপুত্র স্থবির পুনঃ একবার ভগবানের নিকট গিয়েছিলেন। রেবতকে দর্শনে যাওয়ার জন্য তিনি ভগবান তথাগতকে জানালেন। এবার ভগবান যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেন। রাস্তা ছিল দীর্ঘ এবং দুষ্কর। সে কারণে লাভীশ্রেষ্ঠ ভদন্ত সীবলী স্থবিরকে সাথে নিয়েছিলেন, যাতে তাঁর পুণ্য প্রতাপে মার্গে ভোজনাদির কোনো সমস্যা না হয়। ভগবান বুদ্ধ ত্রিশ হাজার ভিক্ষুকে সাথে করে দু’মাসের পদ যাত্রা করে খদিরবনে পৌঁছেছিলেন।
ভগবান খদিরবন হতে রেবতকে দর্শন করে শ্রাবস্তীতে প্রত্যাবর্তন করলেন। রেবতকে দর্শনে গিয়েছেন এ সমাচার মহোপাসিকা বিশাখা শুনলেন। তথাগত তখন বিশাখা প্রদত্ত পূর্বারামে অবস্থান করছিলেন। দ্বিতীয় দিন ভগবান বুদ্ধ বিশাখার নিমন্ত্রণে তাঁর গৃহে ভোজন করতে গিয়েছিলেন। ভোজনান্তে উপাসিকা বিশাখা ভগবান বুদ্ধকে অভিবাদন করলেন এবং একপাশে উপবেশন করলেন। তখন তিনি ভগবানের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন-‘ভন্তে! কিছু ভিক্ষুর কাছ হতে শুনেছি যে, আয়ুস্মান রেবত খদিরবনে বিহার করছেন এবং ভগবান তাঁকে দর্শনের জন্য তথায় গিয়েছিলেন। আমি ভিন্ন ভিন্ন জনের কাছ হতে খদিরবনের অনেক প্রশংসা ও অপ্রশংসা উভয়ই শুনেছি। সে স্থান কি সত্যিকার অর্থেই রমণীয়? তা আপনার কাছ হতে জানতে চাই।’
ভগবান তথাগত উত্তরে বলেছেন-
‘গামে বা যদি বা’রঞ্ঞে নিন্নে বা যদি বা থলে,
যত্থা’রহন্তো বিহরন্তি তং ভূমিং রামণেয্যকং।’
রমণীযানি অরঞ্ঞানি যত্থ ন রমতি জনো,
বীতরাগা রমিস্সন্তি ন তে কামগবেসিনো।’
(ধম্মপদ-৯৮, ৯৯)
অর্থাৎ উপাসিকা! গ্রাম বা অরণ্য, নিম্ন বা উঁচু ভূমি, যেখানেই অরহতেরা বসবাস করেন, সে স্থান হল সর্বদা রমণীয়।
সাধারণ কামভোগী লোকেরা যেখানে আনন্দ পায়না, সে সমস্ত অরণ্য স্থানেই বীতরাগী অরহতেরা আনন্দানুভব করে থাকেন। কেননা তাঁরা কামাসক্ত নন। ইহা শুনে বিশাখা মহা উপাসিকা প্রীতি অনুভব করলেন।
রেবত স্থবির খদিরবনে অবস্থান করেন। এরকম গভীর অরণ্যবাসই ছিল তাঁর প্রিয়। সেজন্য তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ। ভগবান সর্বজ্ঞ বুদ্ধ তাঁকে অভিধা প্রদান করে ঘোষণা করেছিলেন-‘ভিক্ষুগণ! আমার ভিক্ষু শ্রাবকদের মধ্যে রেবত হল অরণ্যবাসীদের মধ্যে ‘অগ্র।’
তিনি সময়ে সময়ে ভগবান বুদ্ধ এবং অগ্রশ্রাবক ভদন্ত সারিপুত্রের দর্শনে খদিরবন হতে শ্রাবস্তীতে আসতেন। ইহা তাঁর নিয়ম হয়ে গিয়েছিল যে, তিনি খদিরবন হতে শ্রাবস্তীতে এসে কিছুদিন অবস্থান করে ভগবান এবং ভদন্ত সারিপুত্র স্থবির হতে ধম্মোপদেশ শুনে পুনরায় খদিরবনে ফেরত যেতেন। তিনি কেবল একান্ত ও নির্জনবাসই করতেননা, বরং মৌনতাও ছিল তাঁর অতীব প্রিয়। তাঁর এরকম মৌনতার জন্য কখনও কখনও লোকেরা তাঁকে ভুল বুঝতেন।
একবার ভগবান তথাগত এবং ভদন্ত সারিপুত্র স্থবিরকে দর্শনার্থে তিনি শ্রাবস্তী এসেছিলেন। তখন গৃহপতি অতুল উপাসক তাঁর আগমণ শুনে স্বীয় বন্ধু-বান্ধবদেরকে নিয়ে তাঁর কাছ হতে ধম্মোপদেশ শুনতে এসেছিলেন॥ রেবত সে সময় কোনো প্রকার ধম্মদেশনা প্রদান করেননি। তিনি বলেছিলেন-‘আমি এখন একান্তবাসে মগ্ন রয়েছি। ধম্মোপদেশ দিতে অসমর্থ।’ এরকম বলার পর গৃহপতি অতুল সাথীদের নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
এভাবে একবার সম্মুঞ্জনী স্থবিরও তাঁকে ভুল বুঝেছিলেন। সম্মুঞ্জনী স্থবির সবসময় ঝাডু দ্বারা বিহার ও বিহার অঙ্গন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। সেজন্য তাঁর এ নাম প্রকট হয়েছিল। যখন তিনি রেবত স্থবিরের কামরা পরিস্কার করতে গিয়েছিলেন তখন তিনি পদ্মাসনে বসে ধ্যানস্থ ছিলেন। সম্মুঞ্জনী স্থবির মনে করলেন তিনি আলস্য পরায়ন হয়ে বসে আছেন। রেবত স্থবির তাঁর মনের বিতর্ক জানতে পারলেন। স্নানের পরে রেবত স্থবির তাঁর কাছে গেলে তিনি সম্মুঞ্জনী স্থবিরকে ভিক্ষু কর্তব্য সম্পর্কে উপদেশ প্রদান করেছিলেন। তাঁর উপদেশ শুনে তিনি অরহত্ব ফল লাভ করেছিলেন। এরপর হতে তিনি ঝাডু লাগা বন্ধ করেছিলেন। যখন ভগবান তথাগতের নিকট সম্মুঞ্জনী স্থবির সম্পর্কে ঝাডু না লাগানোর অভিযোগ জানানো হয়েছিল, তখন তথাগত বলেছিলেন যে, সম্মুঞ্জনী স্থবির হল নির্দোষ। কেননা এখন তার জন্য করণীয় কর্তব্য আর বাকী নাই। সে এখন কৃতকৃত্যের ঊর্ধে।
গৃহত্যাগের অনেক বছর পরে ভদন্ত রেবত নিজের গ্রাম নালন্দায় গিয়েছিলেন। সেখান হতে তিনি খালি হাতে ফিরেননি। তিনি নিজের সাথে স্বীয় তিন বোনের পুত্রদেরকেও নিয়ে এসেছিলেন। তা শুনে ভদন্ত সারিপুত্র স্থবির রেবতের সাথে সাক্ষাত করার জন্য গিয়েছিলেন। ভদন্ত সারিপুত্রের আগমণ সমাচার জেনে রেবত স্থবির তিন ভাগ্নেকেই সাবধান বা সতর্ক করেছিলেন, যেন তাঁরা কোনো অসদাচরণ না করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি তাঁদেরকে উত্তম শিক্ষা প্রদান করেছিলেন। তাঁদের স্বভাব এবং কোমল ব্যবহার দেখে ভদন্ত সারিপুত্র অনেক প্রসন্ন হয়েছিলেন।
একবার তিনি স্বীয় নিয়মানুসারে শ্রাবস্তী এসেছিলেন। ইহাই ছিল তাঁর অন্তিম শ্রাবস্তী যাত্রা। ভগবান তথাগতের উপদেশ শুনে এবং দর্শনের পরে ভদন্ত সারিপুত্র স্থবিরের সাথে সাক্ষাত করে স্বীয় নিয়মানুসারে তিনি শ্রাবস্তী নগরের সমীপবর্তী কোনো এক বনে বিহার করতে চলে গিয়েছিলেন। কিছু চোর চুরি করে রাজদণ্ডের ভয়ে সেখানে পালিয়ে স্থান নিয়েছিল। তারা চুরিকৃত দ্রব্য সামগ্রী যেখানে রেবত স্থবির ধ্যানে মগ্ন ছিলেন সেখানে রেখে দিয়েছিল এবং নিজেরা প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র পলায়ন করেছিল। রাজার লোকেরা চোরদের পিছু ধাওয়া করতে করতে সেখানে গেলেন এবং রেবত স্থবিরের নাতিদূরেই চুরিকৃত সামগ্রী পেয়ে গেলেন। তাঁরা রেবত স্থবিরকেই চোর মনে করে রাজার কাছে নিয়ে আসলেন। রাজার দ্বারা জ্জ্ঞাসিত হয়ে তিনি স্বীকার করলেন যে, তাঁর দ্বারা চুরির সম্ভাবনা নাই এবং তিনি রাজাকে অনেক প্রকারের গাথা ভাষণ করে ধম্মোপদেশ দান করলেন। অতঃপর তিনি পদ্মাসনে ধ্যানস্থ হয়ে উপরে আকাশের দিকে উত্থিত হলেন এবং সেখানে নিজে পরিনির্বাপিত হয়ে জ্বলে না যাওয়া পর্যন্ত শূণ্যে স্থিত থেকেছিলেন।
অহো! নৈর্বাণিক সুখ! যাঁরা একবার এরূপ অমৃত নৈর্বাণিক সুখের সন্ধান পেয়েছেন তাঁদের জন্য অন্যান্য সুখ ও সম্পদ বিষময় বলে মনে হয়। সেজন্য সে উত্তম নৈর্বাণিক সুখ ও সম্পদ প্রদান করতে বুদ্ধ তাঁর গৃহস্থ জীবনের পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, ভ্রাতা ও পরিবার-পরিজনদেরকে গৃহরূপ কারাগার হতে বের করে এনে উন্মুক্ত আকাশ সদৃশ প্রব্রজ্যা দান করার মাধ্যমে সে উত্তম অমৃত সুখের সহভাগী করে চরম উপকার করে কল্যাণমিত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি তাঁদেরকে দুঃখ পূর্ণ সংসাররূপ কারাগার বন্ধনে আবদ্ধ রেখে ভবচক্রে সংসরণ করার মত চরম শত্রুতাচারণ করতে চাননি।
অনুরূপভাবে বুদ্ধের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভগবান তথাগতের প্রথম অগ্রশ্রাবক, ধম্মসেনাপতি, অনুবুদ্ধ ভদন্ত সারিপুত্র স্থবিরও নিজের সাতজন ভাই-বোন ও ভাগিনাদের প্রতি অপরিসীম কল্যাণকামী হওয়ায় মাতা-পিতার বিরাগ ভাজন হয়েও তাঁদেরকে সর্বোত্তম সহায়তা দিয়ে নৈর্বাণিক অমৃত শান্তি, সুখ ও সম্পদ দান করেছিলেন। মাতাকেও আপ্রাণ চেষ্টা করে সদগতি প্রদান করেছিলেন। এদেরকেই বলা হয় সত্যিকার পরম উপকারক ও পরম কল্যাণমিত্র। তাঁরা সংসারের আবর্ত হতে বিবর্তের পথে এনেছিলেন নিজেদের সাথে নিজেদের পরিবার-পরিজনকেও। এরকম ঘটনার উদাহরণ ইতিহাসে বিরল হতে বিরলতম।
বর্তমানে আমাদের অধিকাংশ সেরকম আদর্শ অনুসরণ করব বলে সীমায় প্রবেশ করে সঙ্ঘের সম্মুখে প্রতিজ্ঞা করে চীবর ধারণ করলেও নিজেরাও ভিক্ষু কর্তব্য করে নির্বাণের কাজ তো করিনা, বরং চাকরি তথা দাস্যবৃত্তাদি করে, নানা রকম চল-চাতুরি করে অর্থ-বিত্ত, ধন-সম্পদ আহরণ করে এবং ধম্মের নামে বিবিধ কপটতার আশ্রয় করে আরো বেশী করে জন্মান্তরের জন্য সংসার বন্ধনে নিজেরাও আবদ্ধ হই এবং দানীয় অর্থ-সম্পদ ও ধম্মের নামে ছল-কপটতা করে নেওয়া অর্থ-বিত্তের দ্বারা পরিবার-পরিজন ও আত্মীয় স্বজন পোষণ করে এবং গৃহস্থালী কর্মে সহযোগ দিয়ে পরিবার পরিজনদেরকেও অনন্ত সংসার বন্ধনের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের এবং পরিবারের সকলের সাথে চরম শত্রুতাচরণ করে থাকি। যা হল অশুদ্ধ আজীবিকা। আমাদের দৃষ্টি সম্যক না হওয়ার কারণে আমরা এরূপ অশুদ্ধ আজীবিকায় আসক্ত ও রমিত হই। মনে করে থাকি আমি পরিবারের উপকার করছি। বরং অনন্ত সংসার চক্রে ঠেলে দিয়ে ইহা হল নিজের ও পরিবারের সাথে আমাদের চরম শত্রুতাচরণ ছাড়া আর কিছু নয়।