22/05/2025
ছাগল চড়িয়ে বেড়ানো বালক, যার দাদাকে ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সার্বরা হত্যা করে এবং তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এরপর রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়ানো। বোমা, গুলি, রক্ত আর ধংসের বাস্তবতার মাঝে ফুটবলই ছিল তার কাছে মুক্তির পথ। লুকা মদ্রিচ আশ্রয় নিয়েছিলেন ফুটবলেই।
এরপর একদিন জোসে মরিনহো তাকে মাদ্রিদে নিয়ে এলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টটেনহ্যাম থেকে এসে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নিউ গ্যালাকটিকোয় খাবি খেতে লাগলেন। প্রথম মৌসুমে তো লা লিগার সবচেয়ে বাজে সাইনিংয়ের তকমাও পেলেন।
কিন্তু মরিনহো সেদিন পাশে ছিলেন। আশ্বস্ত করেছিলেন, 'একদিন এই ছেলেকে ভালোবাসতে বাধ্য হবে তোমরা।' পাকা জহুরি মরিনহো সঠিক রত্নই তুলে এনেছিলেন।
১৩ বছর পর যখন মাদ্রিদ ছাড়ছেন, তিনি কিংবদন্তি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। ক্রোয়েশিয়ার গ্রেটেস্ট এভার। মাদ্রিদের জার্সিতে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা, তার থেকে বেশি শিরোপা আছে শুধু এসি মিলান আর রিয়াল মাদ্রিদের। বায়ার্ন মিউনিখ আর লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ তার সমান। বার্সেলোনা তার চেয়ে একটা কম জিতেছে।
দেশকে একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছেন। শিরোপা ছুঁতে পারেননি, তবে তার দেশের জন্য ফাইনাল খেলাটাই বিশাল ঘটনা। আরেকবার সেমিফাইনালেও তুলেছেন। মেসি-রোনালদোর ব্যালন ড'র রাজত্বে ছেদ টানা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন।
সবচেয়ে বড় কথা, মদ্রিচ যখন মাদ্রিদ ছাড়ছেন তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বিরাও দুঃখ ভারাক্রান্ত। লুকিতাকে তারাও ভালোবাসে।